ফাইনালে বার্সেলোনা

ফাইনালে বার্সেলোনা

স্পোর্ট ডেস্ক।।চলতি মৌসুমে অন্তত একটা শিরোপা জয়ের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখলো বার্সেলোনা। জেরার্ড পিকের নাটকীয় গোলে, কোপা দেল রে’র ফাইনালে উঠেছে বার্সা। প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারলেও, ফিরতি লেগে সেভিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে লিওনেল মেসির দল। এ নিয়ে গেলো ৭ মৌসুমে ষষ্ঠবারের মতো কোপা দেল রে’র ফাইনালের টিকিট কাটলো কাতালানরা।

ভাঙাচোরা দল। মাঠের বাইরেও কতো ইস্যু! গুছিয়ে উঠতে হিমশিম খায় বার্সেলোনা। যার জন্য খেলা, সেই ট্রফিগুলো থেকে যায় নাগালের বাইরে। কোপা দেল রে’র শিরোপার স্বপ্নটাও ধূসর হয়ে আসছিলো। কিন্তু, ক্যাম্প ন্যু’য়ে নায়কের বেশে আবির্ভূত হলেন জেরার্ড পিকে। ম্যাচের শেষ মিনিটে গল্পটা বদলে গেলো স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের স্পর্শে।

প্রথম লেগে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেভিয়ার যেকোনো মূল্যে ফাইনালে ওঠা চাই। শুরু থেকে ডি-বক্স আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় লস পালাঙ্গানারা। আগলে রাখা ডি-বক্সে ফাটল ধরালো ডেম্বেলের বুলেট গতির শটটা। ১২ মিনিটে বার্সা এগিয়ে গেলো ১-০ গোলে। ফাইনালে যেতে আরও গোল চাই। কাতালানরা লিওনেল মেসির জাদুর অপেক্ষায়। ৩৩ মিনিটে গোললাইন থেকে বল ফিরলে আফসোসে পুড়তে হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও পেরোয় অনেকটা সময়। দ্বিতীয় গোলটা রয়ে যায় অদেখা। ৬৭ মিনিটে জর্ডি আলবা ফেরেন ক্রসবার কাঁপিয়ে। কাতালানদের কাঁপুনি বাড়িয়ে ৭১ মিনিটে সেভিয়ার পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু, স্টেইগেনের বিশ্বস্ত গ্লাভসে আটকে যায় ওক্যাম্পোসের স্পটকিক।

বড় দলের সঙ্গে অন্যদের তফাৎটা তো এখানেই। এমন ম্যাচে সুযোগ লুফে নেয়া চাই শতভাগ। সেটা তো লোপেতেগুইয়ের দল পারলোই না, উল্টো ফার্নান্দোর লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হলো।

পরক্ষণেই পাল্টে গেলো দৃশ্যপট। গ্রিজম্যানের অ্যাসিস্টে পিকের নাটকীয় গোলে, দুই লেগ মিলিয়ে ২-২’এর সমতার পর, অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো খেলায় আরও লিড নিতে দেরি হয়নি বার্সার। জর্ডি আলবার অ্যাসিস্টে ম্যাচের স্কোরলাইন ৩-০ করেন ব্রাথওয়েট।

ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছিলো যেখানে, মার্চের শুরু সেখান থেকেই। পরপর দু’ম্যাচে সেভিয়াকে ডোবালো রোনাল্ড কোম্যানের দল। লা লিগায় জয় ছিলো ২-০’তে, এবারেরটা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এ মৌসুম শেষেই অন্য কোনো ঠিকানায় পাড়ি জমাতে পারেন মেসি। এই গুঞ্জন যদি সত্য হয়, বিদায়ের আগে ভালোবাসার ক্লাবের হয়ে শেষ মৌসুমে অন্তত একটা ট্রফি জয়ের সুযোগ এখনও আছে আর্জেন্টাইন তারকার। আর সে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার জন্য জেরার্ড পিকে একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *