
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি।। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে একটি বাড়িতে স্বর্ণালংকার ও গরু বিক্রির নগদ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গাভীর রাতে উপজেলার নেহালপুর কালিবাড়ি এলাকার তরুন পালের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। চোরচক্র বসতঘরের জানালার গ্রিল ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বাড়ির মালিক তরুন পাল বলেন, দুর্বৃত্তরা রান্না ঘরে থাকা রাতের খাবারের সাথে চেতনানাশক কিছু মিশিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি আমরা বুঝতে পারিনি। সোমবার রাত ১০টার দিকে আমরা সেই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এরপর রাতে কি হয়েছে বলতে পারব না। আজ সকালে ঘুম ভাঙ্গলে দেখি ঘরের শোকেস ভাঙ্গা। ভিতরের জিনিসপাতি সব এলোমেলো করে ছিটিয়ে রাখা আছে। তরুন পাল বলেন, শোকেসের ভিতরে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও দুটো গরু বিক্রির দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিল। সবকিছু চোরেরা নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, রাতে আমার স্ত্রী বাদে পরিবারের সবাই খাবার খেয়েছি। সেই খাবার খেয়ে আমাদের মাথা ঘুরছে, বমি ভাব হচ্ছে। স্থানীয় ডাক্তার দেখায়ে আমরা এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছি। স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তরুন পালের স্ত্রী রাতের খাবার তৈরির কাজ শেষ করে রান্নাঘরে রাখেন। এরপর চোরচক্র রান্না ঘরের পিছনের জানালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে খাবারের সাথে চেতনা নাশক মিশিয়ে দিয়েছে। সেই খাবার খেয়ে তরুন পালের পরিবারের সবাই রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। সেই সুযোগে চোরচক্র বসত ঘরের পিছনের জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢুকে লুটপাট চালিয়েছে। চোরেরা সঙ্গে আনা শাবল, সেলাই রেঞ্জ ফেলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো দিয়ে তারা গ্রিল ভেঙ্গে ঘরে ঢুকেছিল। নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, খবর পেয়ে সকালে মনিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) বদরুজ্জামান স্যার সহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতের খাবার খেয়ে ওই পরিবারের পাঁচ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে তরুণ পালের মেয়ে ও নাত ছেলে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। এসআই রেজাউল আরও জানান, পরিবারটির দাবি তাদের ঘরে ৫-৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিল। যা লুট হয়েছে। আমরা তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি।

