
মনিরামপুর (যশোর)প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মুছা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মরহুমের ছোট ছেলে মইনুল ইসলাম মইন জানান, শনিবার জোহরবাদ মনিরামপুর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রোববার বেলা ১১টায় মরহুমের গ্রামের বাড়ি উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের আটঘোরা গ্রামে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মরুহমের প্রথম নামাজে জানাযায় অংশ নেন ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, দলটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সহসম্পাদক ইখতেখার সেলিম অগ্নি, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাড. শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, জমিয়াত উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাস, জেলা জামায়াতে ইসলামের সূরা কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী গাজী এনামুল হক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোহাম্মদ মুছা নিজেকে মনিরামপুর বিএনপির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলেন। দলটি প্রতিষ্ঠার সময় ১৯৭৮-১৯৯০ পর্যন্ত তিনি মনিরামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০-২০০২ সাল পর্যন্ত মনিরামপুর থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি মনিরামপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে নিজ ইউনিয়ন চালুয়াহাটিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় বেশ কয়েকবার কারাভোগ করেন তিনি।
পেশাগত জীবনে ছিলেন শিক্ষক। সৎ ও কর্মীবান্ধব হিসেবে এলাকায় দল-মত নির্বিশেষে সবার মাঝে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন । বর্তমানে তিনি যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
মোহাম্মদ মুছার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলাম শোক বার্তা জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে সবস্তরের জনগণ।


