
মানিক ঘোষ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ফয়লা ওয়ার্ডের মাষ্টারপাড়ায় প্রবেশ করলেই মনে হবে—এ যেন কোনো পাড়ার রাস্তা নয়, বরং ছোট্ট কোনো খাল। ঘরের সামনে হাঁটুসমান পানি, তার মাঝ দিয়ে কষ্ট করে পার হচ্ছে সাইকেল আর মানুষ।
বর্ষা শেষ হলেও এখানকার পানি শেষ হয় না। বছরের পর বছর একই চিত্র—কাদা, দুর্গন্ধ আর পানিবন্দি মানুষ।
প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় ফয়লা মাষ্টারপাড়াবাসীর লড়াই। শিশুদের স্কুলে পাঠানো, অফিসগামীদের বের হওয়া কিংবা বাজারে যাওয়াও, সামনে মসজিদে নামাজীরা যাওয়া এ যেন এখন কঠিন কাজ। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একজন বৃদ্ধ বাসিন্দা ক্ষোভভরে বলেন,রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলেই মনে হয় খালে নামছি, কখন পা পিছলে পড়বো, বলা যায় না।
স্কুলছাত্রী রাদিয়া জানায়, “বৃষ্টির দিনে স্কুলে যাওয়ার সময় বই-খাতা ভিজে যায়। কখনো পানি মাড়িয়ে পড়ে গেছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, ৯ বছর ধরে ফয়লা মাষ্টারপাড়ার রাস্তাটা এমনই বেহাল। কালীগঞ্জ পৌরসভায় বহুবার জানিয়েছি, এমনকি লিখিত আবেদনও দিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো কাজ হয়নি। আমরা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়রা জানান, সমস্যা শুধু কাদা বা পানি নয়—পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা ডুবে যায়। ফলে বর্ষার পানি থেকে শুরু করে ময়লা-আবর্জনা, সব জমে থাকে রাস্তায়।
এই স্থায়ী জলাবদ্ধতায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে গেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার উপসর্গ। অথচ এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
একজন স্থানীয় মা বলেন, বাচ্চারা বাইরে খেলতে পারে না, সারাক্ষণ ঘরে বন্দি থাকে। রাতে মশার কামড়ে ঘুমানো দায়।

