
★ কালিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে মতবিনিময় ও প্রতিনিধি সমাবেশ।
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, কালিয়া, নড়াইল।। নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হিন্দু প্রতিনিধি সভা। কালিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিনিধি সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক-ধর্মীয় অধিকার, পূজা উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নড়াইল-১ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন,
“হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আমি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে কালিয়া-নড়াইল অঞ্চলে সম্প্রীতির ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় করতে চাই। পূজা-পার্বণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহবায়ক, মতুয়া রত্ন ও সাংবাদিক অশোক কুণ্ডু। তিনি বলেন,
“পূজা উদযাপনের প্রতিটি স্তরে সংগঠনের ঐক্য ও শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে শুধু সংগঠনের কার্যক্রম নয়, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বিত সহযোগিতাও প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কার্তিক দাস, সদস্য সচিব, নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। তিনি সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে পূজা উদযাপন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নমূলক দিক তুলে ধরেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন—নড়াইল সদর থানা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি ও সম্পাদক
কালিয়া থানা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি ও সম্পাদক কালিয়া পৌর পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
ইউনিয়ন পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি–সম্পাদক, বিএনপি’র বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী
বক্তারা বলেন, পূজা-পার্বণ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি সনাতন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্তরিক ভূমিকা অপরিহার্য। তারা আরও বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ধরে রাখা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে সকলের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত বহু প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রয়োজন ও সমস্যার কথা তুলে ধরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান।
করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক পরিবর্তনের এই সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সামাজিক নিরাপত্তা, মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ, পূজা উদযাপনের ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং যুবসমাজের সম্পৃক্ততা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
উপস্থিত প্রতিনিধিরা সমাবেশটিকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে সামনে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

