
অনলাইন ডেস্ক।। শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। রোজকার জীবনে খাবারের ভুল অভ্যাস, অতিরিক্ত স্ট্রেস, অনিয়মিত লাইফস্টাইল—সব মিলিয়ে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার। অনেকে ধারণা করেন, লিভারের সমস্যা মানেই জন্ডিস, অম্বল বা পেটব্যথা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভারের অসুখের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত ফুটে ওঠে আমাদের হাত ও পায়ে। সময় থাকতেই এসব লক্ষণ শনাক্ত করতে পারলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
নিচে জেনে নিন হাত-পায়ে দেখা দেওয়া কোন কোন পরিবর্তন লিভারের রোগের সতর্ক সংকেত দিতে পারে—
হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া
হঠাৎ দুই হাতের তালুতে লালচে ছোপ দেখা দিলে সতর্ক হোন। এতে ব্যথা বা চুলকানি না থাকলেও তালু ফুলে উঠতে পারে। লিভারের অসুখে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে হাতের রক্তনালি প্রসারিত হয়ে লালচে রঙ ফুটে ওঠে। চিকিৎসা না নিলে লালচেভাব আরও ছড়াতে থাকে।
নখের রঙ বদলে যাওয়া
নখ কখনও শরীরের অন্দরস্থ অবস্থা জানায়। নখ যদি অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে বা সাদাটে হয়ে যায়, কিংবা হলদেটে দাগ দেখা দেয়—এটি লিভারের প্রাথমিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। পাশাপাশি শরীরে আয়রনের ঘাটতিও বাড়তে পারে। তাই নখের ধারাবাহিক রঙ পরিবর্তন অবহেলা করা উচিত নয়।
গোড়ালি ও পায়ে কালচে দাগ
পায়ের পাতা, গোড়ালিতে কালচে ছোপ, চুলকানি বা ফুলে ওঠা—এসবই লিভারের রোগের চিহ্ন। লিভারের ক্ষতি হলে শরীরের রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয় এবং হাতে-পায়ে জল জমতে শুরু করে। লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রেও এই লক্ষণ প্রকট হয়। এ সঙ্গে দেখা দেয় ওজন কমে যাওয়া, খিদে না পাওয়া ও অতিরিক্ত ক্লান্তি।
স্পাইডার ভেন বা জালের মতো শিরা
পায়ের পাতায় নীল বা সবুজ রঙের জালের মতো শিরা দেখা গেলে এটিকে বলা হয় স্পাইডার ভেন। সাধারণত শরীরে ইস্ট্রোজেন বেড়ে গেলে এমন হয়, আর লিভারের অসুখ হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত করায় এই লক্ষণ দ্রুত দেখা দিতে পারে।
হাত-পায়ে অসাড়তা বা ব্যথা
হেপাটাইটিস সি বা অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে হাত-পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পায়ে টান ধরা, ঝিনঝিনি ভাব, অসাড়তা—এসব সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করা হয়, কিন্তু এগুলো লিভারের অসুখের গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
হাতের তালুতে অজানা লালচে ছোপ দেখা দিলে
নখের রঙ স্বাভাবিক না থাকলে
পায়ে বারবার কালচেভাব বা ফুলে ওঠার প্রবণতা বাড়লে
দীর্ঘদিন স্পাইডার ভেন দেখা দিলে
হাত-পায়ের অসাড়তা ও ব্যথা কমছে না
এমন কোনও উপসর্গ বারবার দেখা দিলে দেরি না করে লিভার ফাংশন টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি। লিভারের রোগ সময়মতো শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসায় সাড়া মিলতে দেরি হয় না।

