রফিকুল ইসলাম রনি।। ‘প্রিয় মুখের ভীড়ে, মাতি প্রাণের উল্লাসে। ছড়িয়ে গিয়ে জড়িয়ে থাকি, প্রীতিতে স্মৃতি অটুট রাখি’ স্লোগানে আনন্দ, উৎসাহ উদ্দীপনায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আগরপুর আলতাফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি ৬৯ ব্যাচ থেকে ২০২৪ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ( ১ এপ্রিল) উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের আগরপুর আলতাফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উৎসবের সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান।

পুনর্মিলনী মিলনমেলা উদ্বোধনের আগে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বড় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে আগরপুর বাজার প্রদিক্ষন করে মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় বিদ্যালয়ের অবসারপ্রাপ্ত শিক্ষক বৃন্দ, বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান তিনহাজার শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়, ছবি ও সেলফি তোলা, স্মৃতিচারণ আড্ডা মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠানের দিন সকাল সকাল বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে আগরপুর আলতাফ মেমোরিয়াল হাই স্কুলের মাঠ। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের ৫৪টি ব্যাচের পুনর্মিলনী উৎসবে সাবেক শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছিলেন আনন্দে, যেন খুঁজে পেয়েছিলেন নিজেদের শৈশব।

সবাইকে আবার একসঙ্গে পেয়ে যেন কর্মজীবনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গিয়েছিল সাবেক শিক্ষার্থীদের। পুরোনো ক্যাম্পাসকে নতুন করে ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে ছিল অনেক কসরত। প্রাণের বিদ্যালয়ে মধুর মিলনে সতীর্থরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলির মাধ্যমে বন্ধুত্বের নতুন বন্ধন তৈরি করেন। সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একই মিশেলে মিলিত হন।

বিদ্যালয়ের ৯০ ব্যাচের পুনর্মিলনী বাস্তবায়ন উপ কমিটির অন্যতম এস এম শফিউল আজম শাহিন বলেন, ২৫ বছর পর বন্ধুত্বের টানে শৈশবের মধুর স্মৃতিচারণায় ঈদের দ্বিতীয় দিন ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। ব্যাচের সদস্যদের অনেকেই দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত।

সাবেক শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা শৈশব-কৈশোরের খোঁজে এখানে ছুটে এসেছি, স্বপ্নের দরবারে, স্মৃতির আঙিনায়।

পায়রা উড়িয়ে জাঁকজমকপূর্ণ এ আয়োজনে উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক বৃন্দ। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মুজাফফর আলী হাওলাদার বলেন, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন রচিত হয়। সুখ-দুঃখের স্মৃতি রোমন্থন করার সুযোগ ঘটে। এর মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।

বিদ্যালয়ের উপস্থিতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, প্রয়াত শিক্ষক ও সহপাঠীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকবৃন্দকে ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হয়। উপহার পেয়ে তারা আনন্দিত।

দোলা মনি ও লামিয়ার সঞ্চালনায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ এএফ এম জালাল আহমেদ (ব্যাচ ১৯৬৯), নুরুল ইসলাম খলিফা (ব্যাচ ১৯৭০), আনিসুর রহমান (ব্যাচ ১৯৭৫), কামরুল আহসান খান হিমু (ব্যাচ ১৯৮২), মো: মিজানুর রহমান হাওলাদার (ব্যাচ ১৯৮৫), মো:  বশিরুল ইসলাম  (ব্যাচ ১৯৮৬), অধ্যক্ষ এবায়েদুল হক শাহীন, নুরুল আহসান (ব্যাচ ১৯৮৮), মো: সাইদুর রহমান জামাল (ব্যাচ ১৯৯০), এস এম শফিউল আজম শাহিন (ব্যাচ ১৯৯০), রায়হান উদ্দিন মাহাবুব (ব্যাচ ১৯৯১), দেবাশিস কান্তি দাস (ব্যাচ ১৯৯৭), মো: সোলাইমান ইসলাম (ব্যাচ ২০০০), এসএম শফিকুল ইসলাম (ব্যাচ ২০০১), মো: আসাদুজ্জামান (ব্যাচ ২০০৪) প্রমুখ।

মিলনমেলায় ছিল- ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, প্রীতিভোজ প্রভৃতি।

অনুষ্ঠানের আয়োজনের উদ্যোক্তার প্রধান ভূমিকা পালন করেন ২০০৬ ব্যাচের বাবলু সিকদার জয়, সালাহ উদ্দিন মুন্না ও সজল চন্দ্র দাস।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে ভূমিকা পালন করেন এস এম শফিউল আজম শাহিন (ব্যাচ ১৯৯০), দেবাষীশ কান্তি দাস (ব্যাচ ১৯৯৭), আরিফুর রহমান সুমন (২০০১), কর্মকার অনুপ কুমার (২০০৬), হেমায়েত উদ্দিন কাজী (২০১২), রায়হানুদ্দিন মোহাম্মদ রনবীর (১৯৯১), ওবায়দুল হক খান (২০০১) সহ আরো অনেকে।

বিভিন্ন শিল্পী দের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

Share.
Exit mobile version