রাঙা প্রভাত ডেস্কঃ ধর্মীয় অনেক রীতি-নীতি নিয়েই আমাদের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। আর এমনটা রয়েছে পবিত্র কুরবানি নিয়েও। তাই চলুন কুরবানি সম্পর্কে আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা সম্পর্কে জেনে নেই। কুরবানী দেয়া কি ফরয? কুরবানি করা ফরজ, ওয়াজিব না সুন্নত এই বিষয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। কুরবানি আসলে ফরয না। সামর্থবান ব্যক্তির উপর এটি ওয়াজিব নাকি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ তা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে শক্তিশালী মত হচ্ছে, এটি ওয়াজিব।
পরিবারের মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী দেয়া যাবে কিনা এই বিষয়ে অনেকেই দ্বিধান্বিত হন। মৃত ব্যক্তির পক্ষে একটি পূর্ণ কুরবানী সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। তবে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোরবানি দেয়া যাবে। সেক্ষেত্রে এটি মৃত ব্যক্তির জন্য সদকা হিসেবে গন্য, তাই তার সম্পূর্ণ অংশ সাদকা করে দিতে হবে যা সওয়াবের কাজ। অনেকেই মনে করে, মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করলে সেটা পরিবারের জীবিত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে হবে না। কিংবা এক বছরে পরিবারের জীবিত কেবল এক/দুই জনের নামেই কুরবানী করা যাবে। অথচ (শর্ত ব্যতিরেকে) পরিবারের সক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করার অর্থই হচ্ছে জীবিত, মৃত সকলের পক্ষ হতে কুরবানী হওয়া।
কুরবানী করার সময় কি ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের নাম উচ্চারণ করা উচিত? এই বিষয়ে গুঞ্জনের যেন অন্ত নেই। প্রথমত, কুরবানী কেবলমাত্র আল্লাহ্র নামে হয়, কোন ব্যক্তির নামে না। আল্লাহ্র নাম ব্যতিত অন্য কিছুর নামে পশু জবাই করা হলে, সে পশুর মাংস ভক্ষন করা মুসলমানের জন্য হারাম। তবে যে ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া হচ্ছে, সে ব্যাপারে আল্লাহ্ সম্যক অবগত। তাই আলাদাভাবে পশু জবাইয়ের সময় উল্লেখ করার কোন প্রয়োজন নেই। প্রিয় নবী করীম (সা.) এর নামে কুরবানী করা কি জায়েজ? অনেকেই এই ধরণের প্রশ্ন করে থাকেন। তবে এর জবাব হল নাহ। কেননা এ ধরণের কোন নমুনা সাহাবাদের জীবনী থেকে পাওয়া যায় না। তাই এটা একেবারেই অর্থহীন।

পিতা-পুত্র কিংবা ভাইয়েরা পৃথকভাবে সক্ষম হলে, সেক্ষেত্রে হুকুম কি? সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর কুরবানি ওয়াজিব। তবে এখানে কয়েকটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। প্রথমত যদি পুত্রদের পৃথক সংসার না থাকে, তবে একসাথে দিলেই চলবে। তবে যদি পিতা-পুত্র উভয়ের পরিবার একত্রে বসবাস করে এবং সম্মিলিতভাবে সংসারের খরচ শেয়ার করে কিংবা বৃহৎ একান্নবর্তী পরিবার হয়, সেক্ষেত্রে একসাথে শেয়ার করে কুরবানি দিতে কোন বাঁধা নেই। যদি পিতা-পুত্র কিংবা ভাইদের প্রত্যেকের পরিবার আলাদাভাবে বসবাস করে, সেক্ষেত্রেও ঈদ উপলক্ষে একত্রিত হয়ে একসাথে কুরবানি করা জায়েজ। প্রত্যেক পরিবারের সামর্থবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে পৃথকভাবে/পৃথক ভাগে/পৃথক নামে কুরবানি করা। (শায়খ আব্দুল আজিজ বিন (রা) কে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি আলাদা কুরবানির পক্ষেই জোরালো মত দিয়েছেন)

ধার করে কি কুরবানি দেয়া যাবে? এমন বিষয়ে জানা যায়, ধার পরিশোধে সক্ষম ব্যক্তির ঋণ করে কুরবানি দেয়াতে কোন বাঁধা নেই। কিন্তু যার সামর্থ্য নেই, তিনি ঋণ করে কুরবানি করতে পারবেন না। সেইসাথে সামর্থ্যবান ব্যক্তি একাধিক পশু কুরবানি দিতে পারেন। কোন অবুবিধা নেই। কোন নিয়তে দিচ্ছেন, কুরবানির মূল্যবোধ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা সেটাই আসল বিষয়। নারী পশু/গর্ভবতী পশু কুরবানিতেও কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কুরবানির মাংস / গোশত কি ৩ ভাগ করতেই হবে? এক্ষেত্রে ইসলাম উদারতা পোষণ করেছে। কেউ চাইলে বা পরিবারের প্রয়োজন থাকলে সে পুরোটাই নিজে রেখে দিতে পারে। আবার চাইলে পুরোটাই দিয়ে দিতে পারে। এটা যার যার তাকওয়া’র উপর। তবে ৩ ভাগের প্রচলিত পদ্ধতিটি একটি উত্তম পদ্ধতি।
আল্লাহ্ আমাদের সঠিকভাবে সুন্নাত মোতাবেক কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমাদের সকলের পশু কুরবানিকে কবুল করুক। এবং আমাদের অন্তরের পশুত্বকেও যাতে কুরবান করতে পারি, সে তাওফিক দান করুন।
Share.
Exit mobile version