বিশেষ প্রতিনিধি।। পাবনার চাটমোহরে ভুট্টা চাষে ঝুকেছেন কৃষকরা পাশাপাশি শিক্ষিত যুবকেরাও পিছিয়ে নেই। পশু খাদ্য তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার বেশি হওয়ায় সারা বছর ভুট্টার চাহিদা থাকে। ফলে কৃষকেরাও এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টার চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। জমির মাটি উর্বর ও চাষ উপযোগী হওয়া পাশাপশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বেশ ভালো আশা করছে কৃষক।
জানা গেছে, গত মৌসুমে ভুট্টা চাষে লাভ হওয়ায় এ বছর অনেক বেশি ভুট্টা চাষ করেছেন কৃষকরা। বর্ষার পানি নেমে যাবার পর উর্বর পলিমাটিতে সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে কৃষি আফিসের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ করছে কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্প, পুষ্টি প্রকল্প ও সরকারিভাবে বীজ ও সার বিতরণ, বীজ ও বালাইনাশক সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। উপজেলার হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া, গুনাইগাছা, হরিপুর ও ছাইকোলা ইউনিয়ন বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা অনেক ভুট্টা চাষ করেছেন।
হান্ডিয়াল পাকপাড়া গ্রামের ভুট্টা চাষী আব্দুর রাহিম বলেন, বীজ, সার, পানি, জমি প্রস্তুত, লাগানো, শ্রমিক মজুরি, কাটা-মাড়াইসহ প্রতি বিঘায় তাদের খরচ হয় সর্বোচ্চ ৮-১০ হাজার টাকা। ভুট্টা বিঘাতে গড়ে ৪০-৪৫ মণ হয়। বাজারে ভুট্টার অনেক চাহিদা আর দামও মোটামুটি ভালো। আমি গত বছর ২ বিঘা ভুট্টা চাষ করেছিলাম, এবার ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুমবিল্লাহ বলেন, ভুট্টার বহুবিধ ব্যবহার থাকায় চাষ বাড়ছে। মানুষের খাবারের পাশাপাশি ভুট্টা থেকে গবাদি প্রাণী, মাছ ও হাঁস মুরগির খাদ্য তৈরি হয়। কৃষি অফিসের পরামর্শে ভুট্টা চাষে ঝুকেছেন শিক্ষিত বেকার যুবকেরাও। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে।

Share.
Exit mobile version