বিশেষ প্রতিনিধি।। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে স্রোত ও ঢেউ বেড়েছে। যার কারণে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও শরীয়তপুরের ছাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝিরঘাট নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)।

রবিবার (১৯ জুন) রাতে সংস্থাটির কর্মকর্তারা ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য এ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিটিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আহম্মেদ আলী।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ শনিবার সুরেশ্বরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ৪৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে। রবিবার তা বিপৎসীমা ছুয়ে ৪৪৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। যার ফলে নদীতে স্রোত ও ঢেউ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া নদীতে কিছু স্থানে ঘুর্ণন সৃষ্টি হয়েছে।

এ জন্য নদীতে চলাচলকারী নৌযান চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাই পদ্মা নদীতে পানি ও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার সকাল থেকে ডাম্প ফেরি রানিগঞ্জ ও রায়পুরা আর ছোট ফেরি কর্ণফুলি নৌপথে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্রোতের কারণে শনিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফ্রী সুফিয়া কামাল ও বেগম রোকেয়ার জাজিরা প্রান্তের পদ্মা নদীতে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ফেরিতে থাকা গাড়িগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। বেগম রোকেয়া ফেরিতে পাশাপাশি দুটি গাড়ি একে অপরকে ধাক্কা দিলে মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মো. খোকন চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আহত হন কমপক্ষে ১০ যাত্রী। এরপর ওই নৌপথে ফেরি বেগম রোকেয়ার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে নৌপথের বিভিন্ন স্থানে ঘুর্ণন শুরু হয়। ফেরির চালকদের ফেরি চালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। সন্ধ্যার পরে নৌপথের যে ফেরিগুলো জাজিরা প্রান্তের সাত্তার মাদবর, মঙ্গলমাঝির ঘাটে গিয়েছিল তা শিমুলিয়ায় ফিরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিআইডব্লিউটিসির সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রচণ্ড স্রোত সেই সঙ্গে ঘুর্ণন সৃষ্টি হয়েছে নদীতে।
তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চালাতে হিমশিম খাচ্ছে ফেরিচালক। তার মধ্যে দুই ফেরির সংঘর্ষে একজন নিহত বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পথের যানবাহনগুলোকে বিকল্প হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের অনুরোধ করা হয়েছে।

Share.
Exit mobile version