কে এম সোহেব জুয়েল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ– মুক্তি যোদ্ধার ভাতার নমে সময় খেপন করায় ধৈর্য হারিয়ে অতপর আত্বহত্যার পথ বেছে নিছেন অসহায় ভূমি ও আশ্রয়হীন যুদ্ধাহত বীর মুক্তি যোদ্ধার পরিবারের লোকজন।

এমনটি ঘটেছে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠি গ্রামের মৃত অসহায় ভূমিহীন গেজেট প্রাপ্ত বীর যুদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধা মোঃ ইসমাইল খানের পরিবারের লোকজনের বেলায়। তার ( ইসমাইল খানের) যুদ্ধাহত গেজেট নং-১৫০১,লাল মুক্তি বার্তা নং-০৬১১০০২৫৪,বেসামরিক গেজেট নং- ৩৪২৩।

ইসমাইল খানের স্ত্রী রেনু বেগম বলেন পরাধীনতা শক্তির মোকাবেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশ স্বাধীন করতে নিজের স্ত্রী সন্তান রেখে দেশ ত্যাগ করে ভারতে যুদ্ধেের প্রশিক্ষনে যান তার স্বামী ইসমাইল খান। বাংলাদেশে ফিরে পাক-হানাদারদের সম্মুখ যুদ্ধে গ্যানেটের আঘাতে পঙ্গুত্ব জীবন কাটাতে হয় তাকে। দীর্ঘদিন সম্মানী যুদ্ধাহত রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহন করেও কতিপয় অসধু লোকের কারনে আমার স্বামীর ভাতা বন্ধ হওয়ায় আজ আমাদের না খেয়ে না পরে অন্যের জায়গায় থাকতে হচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। এমনটি জানিয়েছেন ইসমাইল খানের স্ত্রী রেনু বেগম।

তিনি আরো বলেন আমার স্বামীর জীবদ্বশায় কতিপয় স্বার্থান্নেশি লোক আমার স্বামী ইসমাইল খানের দ্বারা তাদের অনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারায় ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধা আখ্যায়িত করে ২০১৪ ইং
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত করেন। ফলে সম্মানী রাষ্ট্রীয় ভাতা বন্দ করে দেয় সরকারি দাপ্তরিক সংশ্লিষ্টরা।

স্বামী ইসমাইল নিরুপায় হয়ে তার রাষ্ট্রীয় বেতন ভাতা চালুর দাবিতে সরকারের বিভিন্ন মহলে দৌরঝাপ করে কোন উপায়ন্ত না পেয়ে অবশেষে ভাতা চালুর দাবিতে সর্বস্য হারিয়ে
সরকারের উচ্চ আদালতে ভাতা চালু রাখতে মামালা করেন।

তার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ ৭ বৎসর মামলা চালানোর পর ২০২০ ইং ৪ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতের আদেশ বলে ভাতা চালু হয়। রাষ্টীয় সম্মানী ভাতা ভোগ করে আমার স্বামী ২০২০ ইং সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ফুসফুস ক্যান্সার জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে- রাষ্ট্রিয় মর্যদায় তাকে দাফন করা হয়।

স্বামীর মৃত্যুর পর আমার নামে ভাতা চালু করতে প্রয়োজনিয় কাগজ পত্র ঢাকা মুক্তি যোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টে জমা দিয়ে দীর্ঘ দুই বছরের অধিক সময় তাদের টেবিলে ঘুরে ভাতা চালুর দাবিতে বরিশালর মুক্তি যোদ্ধা ইউনিয়ন ও থানা কমান্ডারের সুপারিশ নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ মুক্তি যোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের সাথে স্বাক্ষাৎ করি। মন্ত্রী মহোদয় দরখাস্ত আমলে নিয়ে কল্যান ট্রাস্টের পরিচালকের কাছে পাঠালেও অদ্যবধি কোন সুরাহ না পেরে সর্ব শেষ স্ব- পরিবারের আত্বহত্যার পথ বেচে নেওয়া ছারা কোন উপায় নাই তাদের, এমনটি জানিয়েছেন এই যুদ্ধা হত অসহায় পরিবারের লোকজন ।।

Share.
Exit mobile version