মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, কালিয়া(নড়াইল)।৷ কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে ব্যাপক রোগবালাই দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাঁস ও মুরগি। হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে হাঁস-মুরগির মড়ক শুরু হওয়ায় খামারি ও সাধারণ গৃহস্থ পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়াগাতী ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া, মাউলী, জয়নগর, খাশিয়াল, বাঐশোনা ও পহরডাঙ্গা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চলমান প্রচণ্ড শীতের কারণে হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও সময়মতো টিকার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে এসব গৃহপালিত প্রাণী মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে হাঁস-মুরগির মৃত্যুহার বেশি হওয়ায় ক্ষুদ্র খামারি ও দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে।
মূলশ্রী গ্রামের গৃহিণী লতা বেগম বলেন,
“হঠাৎ শীত পড়ার পর থেকে আমার ২০টি মুরগির মধ্যে ১৫টিই মারা গেছে। একদিনের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। এই মুরগিগুলো ঘিরেই আমার অনেক স্বপ্ন ছিল, সব চুরমার হয়ে গেল।”
কলাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আখের আলী জানান,
“হাঁস-মুরগিই ছিল আমাদের বাড়তি আয়ের ভরসা। কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় সব মারা গেছে। আমরা এখন একেবারে সর্বশান্ত।”
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আব্দুল মোমিন বলেন,
“শীতজনিত রোগে গৃহপালিত প্রাণী আক্রান্ত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। খুব শিগগিরই আক্রান্ত এলাকায় ভেটেরিনারি টিম পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ১০ নং পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন,
“ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও গৃহস্থদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও টিকার ব্যবস্থা প্রয়োজন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।”

Share.

উপদেষ্টাঃ আলহাজ সিরাজ আহমেদ
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ রফিকুল ইসলাম রনি
প্রধান সম্পাদকঃ ইব্রাহিম রুবেল
বার্তা সম্পাদকঃ আব্দুল বারী
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
যোগাযোগঃ
৬/সি, আনেমা ভিস্তা (৭ম ফ্লোর), ৩০ তোপখানা রোড, ঢাকা ১০০০।
মোবাইলঃ ০১৮২৪২৪১০২৩, ০১৭১৯২৬৪০৪৫

Exit mobile version