সুব্রত সরকার ,মহম্মদপুর (মাগুরা)।। মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মাগুরা-২ আসনের স্বতন্ত্র এই প্রার্থী জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাগুরা-১ ও ২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নের সঙ্গে নির্বাচনি এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা দিতে হয়। মোয়াজ্জেম হোসেন নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা জমাও দিয়েছিলেন। সেটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হলে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়। সেখানে ১০ জন ভোটারের মধ্যে ১ জন মৃত ভোটার পাওয়া যায়। এছাড়া বাকি ৯ জনের মধ্যে ৭ জন ভোটার স্বাক্ষর করেননি এবং ১ জন ভোটারের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে বাকি ১ জন ভোটার স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করেছেন।
ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতি ছাড়াও হলফনামায় তিনি মাস্টার্স পাশ উল্লেখ করেছেন। তবে পাশের সনদ জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে জেলা রিটার্নিং অফিসার নিশ্চিত করেন।
মাগুরা-২ আসনে মোট ৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ছাড়াও হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকার কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মশিয়ার রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে মাগুরা-১ আসনে মোট ১০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেনের ১ শতাংশ ভোটার হিসেবে ৪ হাজার ৩০৮ জনের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা উপস্থাপন করার কথা; কিন্তু তিনি ৪ হাজার ১শ জন ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন। এছাড়া ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ আসনের মনোনয়ন বাতিল হওয়া অপর প্রার্থী গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মিজানুর রহমান। আয়কর রিটার্ন দাখিল না করার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।


