কচুয়ায় বৈশাখের মেলা উদযাপিত, এমপি রাহাদ এর মেলা পরিদর্শন
কচুয়া (বাগেরহাট)।। বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উদযাপিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ৪ঠা বৈশাখের মেলা। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মেলা প্রাঙ্গণকে এক উৎসবের জনপদে পরিণত হয়। সন্ধ্যায় বাগেরহাট - ২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো: মনজুরুল হক রাহাদ মেলা পরিদর্শন করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মেলার আয়োজকদের। এছাড়া কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী হাসান,কচুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন,জামায়াতে ইসলামের ওলামা বিভাগের জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আফতাপ হোসেন, কচুয়া উপজেলা আমির মাওলানার রফিকুল ইসলাম মেলা পরিদর্শন করেন এবং শান্তিপূর্ণ মেলা উদযাপনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেলা কমিটির মেলা উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্ঠা: ডাঃ হংসুপতি সিকদার, সভাপতি: জনাব শৈলেন্দ্রনাথ মল্লিক, সম্পাদক: জনাব পিটুন মিত্র, কোষাধ্যক্ষ: জনাব শেখর সিকদার।
বংশ পরম্পরায় চলে আসা এই মেলাটি অত্র অঞ্চলের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্থানীয়দের মতে, মেলাটি শত বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে ৪ঠা বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রচার ছাড়াই কেবল ঐতিহ্যের টানে প্রতি বছর বাগেরহাট জেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ভিড় জমায়।
এবারের মেলায় গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ ফুটে উঠেছে নানামুখী আয়োজনের মধ্য দিয়ে। মেলার বিশেষ আকর্ষণগুলোর মধ্যে ছিল:
কুটির শিল্প ও মৃৎশিল্পের দোকান ছিল খেলনা দিয়ে ভরপুর : মাটির তৈরি খেলনা, হাঁড়ি-পাতিল এবং বাঁশ-বেতের শৌখিন আসবাবপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন কারিগররা।
বিভিন্ন প্রকার খাবারের সমারোহ ছিল মেলায়। মেলার ঐতিহ্যবাহী জিলাপি, কদমা, বাতাসা এবং মুড়ি-মুড়কির দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল খুব সুন্দর। শিশুদের জন্য নাগরদোলা, বায়োস্কোপ এবং বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন মেলাকে করে তুলেছিল আনন্দমুখর।
জনসমুদ্র ও উৎসবের আমেজ
শনিবার সকাল থেকেই আন্ধারমানিক বিদ্যালয় মাঠে মানুষের ঢল নামতে শুরু করে। বিকেল গড়াতেই তা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বয়সী মানুষের এই মিলনমেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, আধুনিকতার ভিড়ে অনেক মেলা হারিয়ে গেলেও আন্ধারমানিকের এই ৪ঠা বৈশাখের মেলাটি আজও তাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শান্তিপূর্ণ উদযাপন
মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী এই মেলা সমাপ্ত হয়।
আয়োজক কমিটির বক্তব্য: "আমরা পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। হাজার হাজার মানুষের এই প্রাণবন্ত উপস্থিতি আমাদের আগামীতে আরও বড় পরিসরে মেলা আয়োজনের অনুপ্রেরণা দেয়।
