সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকার দায়িত্ব হস্তান্তর, দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাজধানীর হোটেল সারিনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নড়াইল জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী, সংগঠক এবং সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব ও গ্রেটার যশোর সমিতি, ঢাকার সভাপতি মো. ওবায়দুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকার আহ্বায়ক খবির উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। এ ছাড়া গ্রেটার যশোর সমিতির বিভিন্ন জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, নড়াইল জেলা সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি আসজাদুর রহমান মিঠুসহ ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব, অফিসের নথিপত্র ও হিসাবপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ নবনির্বাচিত সভাপতি ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
সভাপতির বক্তব্যে খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, নড়াইল জেলা সমিতির এ অগ্রযাত্রা সদস্যদের ঐক্য, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি নবনির্বাচিত কমিটিকে সততা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঢাকায় বসবাসরত নড়াইলের শিক্ষার্থী ও তরুণদের কল্যাণে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সদস্যসচিব শামীমা পারভীন বলেন, নড়াইল জেলা সমিতি শুধু দেড় হাজার নিবন্ধিত সদস্যের সংগঠন নয়, এটি জেলার সব মানুষের সংগঠন। তাই ধর্ম, বর্ণ, পেশা বা আর্থসামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে নড়াইলের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সেবামুখী সংগঠন হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি নির্বাচন ও দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
নবনির্বাচিত সভাপতি আসজাদুর রহমান মিঠু সমিতিকে আধুনিক, স্বচ্ছ, গতিশীল ও সেবামুখী সংগঠনে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি নড়াইলের মানুষের কল্যাণে ঐক্য, জবাবদিহিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথি মো. ওবায়দুর রহমান নড়াইল জেলা সমিতির সাংগঠনিক শক্তি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, জেলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সমিতি শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বৃহত্তর যশোর সমিতির নিজস্ব ভবনে যশোর অঞ্চলের চার জেলার উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডরমিটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে নির্বাচন কমিশন, আপিল বোর্ডের সদস্য এবং বিশেষ অবদান রাখা অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে গ্রুপ ফটো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
■