ঢাকা বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬ ৪ ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২২ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

স্বজনহীন রাইমার মাথা গোঁজার ঠাঁই, মানবিক উদ্যোগে পেলেন পাকা ঘর

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, সময়ঃ ০৮.০৫ পি.এম
স্বজনহীন রাইমার মাথা গোঁজার ঠাঁই, মানবিক উদ্যোগে পেলেন পাকা ঘর
www.dailyranggaprovat.com

শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : জীবনের একের পর এক নির্মম আঘাতে স্বজনহীন হয়ে পড়েছিলেন মোছা. রাইমা খাতুন (৪৫)। স্বামীকে হারিয়েছেন ১৮ বছর আগে। একমাত্র কন্যা মরিয়মও সাত-আট বছর বয়সে সাপের কামড়ে মারা যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবন কাটছিল তাঁর। থাকার মতো ভালো কোনো ঘর ছিল না, ছিল না আপনজনও। জীবনের এই কঠিন বাস্তবতায় একপ্রকার অসহায় ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

তবে সেই দুঃসহ জীবনে এবার কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে রাইমা খাতুন পেয়েছেন একটি পাকা ঘর। দুস্থ ও গৃহহীন মানুষের জন্য চেয়ারম্যান পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে বারান্দাসহ এই ঘরটি।

মঙ্গলবার বিকেলে হেলাতলা ইউনিয়নের ব্রজবাকশা সরদারপাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ঘরটির সামনে বসে আছেন রাইমা খাতুন। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা আর কষ্টের জীবনে নতুন এই আশ্রয় যেন তাঁর কাছে এক অন্যরকম প্রাপ্তি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র কন্যা মরিয়মকে নিয়ে মায়ের ভাঙাচোরা মাটির ঘরে বসবাস করতেন রাইমা। প্রায় ১০ বছর আগে সাত-আট বছর বয়সী মরিয়ম সাপের কামড়ে মারা যায়। এরপর থেকেই তিনি একেবারে একা হয়ে পড়েন। স্বজনহীন এই নারী নিঃসঙ্গতার পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যহীনতার সমস্যাতেও ভুগছেন বলে স্থানীয়রা জানান। নিরাপদে থাকার মতো একটি ঘরও তাঁর ছিল না।

এ অবস্থায় রাইমার অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবার তাঁর জন্য নিজস্ব অর্থায়নে পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়। বারান্দাবিশিষ্ট নতুন ঘরটি পেয়ে এখন অন্তত নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই পেয়েছেন তিনি।

নতুন ঘর পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাইমা খাতুন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আনন্দ ভাগাভাগি করেন। চেয়ারম্যান পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁদের জন্য দোয়া করেন তিনি। দীর্ঘদিনের কষ্টের জীবনে একটি নিরাপদ আশ্রয় পাওয়াকে তিনি পরম প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারের সদস্য ও শিল্পপতি ইমাম হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে হেলাতলা ইউনিয়নের দুস্থ ও গৃহহীন মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে পারিবারিক অর্থায়নে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আওতায় ২০২৪ সালে ২টি, ২০২৫ সালে ৭টি এবং চলতি ২০২৬ সালে আরও ১০টি ঘরের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে অবশিষ্ট ঘরগুলো তালিকাভুক্ত দুস্থদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণ করা সবগুলো ঘরই রং করে দেওয়া হবে। চেয়ারম্যান পরিবারের এ উদ্যোগে রাইমার মতো অসহায় মানুষের জীবনে শুধু একটি ঘর নয়, নিরাপদে বেঁচে থাকার একটি আশ্রয় তৈরি হয়েছে। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিত্তশালীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে এমন মানবিক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।