গৌরনদীতে ভারপ্রাপ্তের ভারে ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়
গৌরনদ (বরিশাল) প্রতিনিধি : নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় এবং অবসরজনিত কারণে বরিশালের গৌরনদীতে ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধানশিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানে নানান ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে।
একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উপজেলা কিংবা জেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া যাচ্ছেনা। যার বাড়তি চাপ পড়ছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর। তারা আরো জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও অতিরিক্ত কোনো সম্মানী দেওয়া হচ্ছে না। পদোন্নতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকদের ভার কেটে দেওয়ার দাবী জানান তারা।
গৌরনদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম নুরুল আলম মৃধা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নিয়োগ বা পদোন্নতির আদেশ পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ‘যাঁদের চলতি দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মহাপরিচালক (ডিজি) মহোদয়ের আদেশ রয়েছে, তাঁদের কয়েকজন দায়িত্ব ভাতা পান। তবে যাঁরা শুধু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের অনেকে কোনো ভাতা পান না।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম জানিয়েছেন, বিদ্যালয়গুলোতে প্রধানশিক্ষক না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রধানশিক্ষকের সংকটের কারনে কোন বিদ্যালয়ে যাতে পাঠদান ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে।
