তেরখাদায় শিক্ষা কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
তেরখাদা (খুলনা) প্রতিনিধি : বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অবঃ) কে এম আলী নেওয়াজ বলেছেন, তোমরা আজ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছ। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের একটি সোপান মাত্র-এটাই শেষ গন্তব্য নয়। আগামী দিনের আরও হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আজকের এই সাফল্যকে বাস্তবায়নের প্রেরণা
মনে রাখবে। জিপিএ-৫ পাওয়া অবশ্যই গর্বের বিষয়, কিন্তু একজন ভালো মানুষ হওয়া তার চেয়েও বড় অর্জন।
জীবনে শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না; সততা, মানবিকতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে নিজেদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলতে হবে।
তোমরা হয়তো আজকের সাফল্যে আনন্দিত। আনন্দ করবে, উৎসব করবে-কিন্তু এখানেই থেমে যেও না। তোমাদের সামনে এখন উচ্চশিক্ষার নতুন পথ খুলে গেছে। নিজের পছন্দ, যোগ্যতা ও স্বপ্ন অনুযায়ী ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ করো। মনে রেখো, জীবনে বড় হতে হলে বড় স্বপ্ন দেখতে হয় এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিয়মিত পরিশ্রম করতে হয়।
তিনি বলেন, জীবনে কখনো ব্যর্থতা এলে হতাশ হবে না। ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, অনেক সময় ব্যর্থতাই সফলতার সবচেয়ে বড় শিক্ষক। পড়ে গেলে উঠে দাঁড়ানোর সাহস, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা এবং লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তাই প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি।
তিনি বলেন,আজ যারা জিপিএ-৫ পেয়েছ, তাদের পাশাপাশি আমি তাদেরও অভিনন্দন জানাই যারা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। কারণ একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনোই একজন শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ মেধা, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। প্রত্যেকের মধ্যেই আলাদা প্রতিভা ও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সেই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। অবঃ অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে চিত্রা মহিলা ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে ২০২৬ সালের এস এস সি পরীক্ষায় জিপিএ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি ওয়ালিদ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ তাহমিনা সুলতানা নীলা বলেছেন, বর্তমান পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়-সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগের সক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে একটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট যেনো সময়, মনোযোগ ও মূল্যবান ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে।প্রযুক্তিকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, জ্ঞান অর্জন ও নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে অধ্যক্ষ এস এম মিজানুর রহমান বলেন, তোমরা জ্ঞান অর্জন করবে, নৈতিকতার চর্চা করবে, মানুষের পাশে দাঁড়াবে, দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করবে-এটাই আজকের দিনে তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা।
তিনি, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী সকল শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন। সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার বাছাড় ও শেখ শিমুল হাসানের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, তেরখাদা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মফিজুল ইসলাম জুম্মান, প্রভাষক মোঃ রবিউ ইসলাম রাজু, প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক এইচ এম রহমাতুল্লাহ, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ তৌহিদুল ইসলাম, কমলেশ বাছাড়া, সুমাইয়া বিনতে আরিফ ও রাফিয়া আক্তার সুমি। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান গণ এবং অভিভাবক মন্ডলী উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান অতিথি কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন।
