ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর লড়াইয়ের মাঝে ‘আবরুদ্ধ’ লেবানন সেনাবাহিনী
প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, রোববার, সময়ঃ ০৩.৩৬ পি.এম
রাঙা প্রভাত ডেস্ক :
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসী স্থল অভিযান এবং প্রতিরোধ যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু পাল্টা হামলার মাঝে পড়ে খোদ লেবাননের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী এখন এক নজিরবিহীন ও চরম অস্তিত্বসংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দুই পরাক্রমশালী শক্তির এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জাঁতাকলে পড়ে লেবানন সেনাবাহিনী কার্যত ‘ত্রিশঙ্কু’ বা মাঝখানে আটকা পড়া এক অসহায় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বৈরুতের ‘লেভান্ট ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স’-এর পরিচালক সামি নাদের এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক সামি নাদেরের মতে, লেবানন নামক রাষ্ট্রটি কখনোই এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের খেলায় অংশ নিতে চায়নি। কিন্তু পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা তো দূরের কথা, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সামি নাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইসরায়েল মূলত দক্ষিণ লেবাননে তাদের চলমান স্থল আগ্রাসন এবং অবৈধ দখলদারিত্বের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের সামগ্রিক ভূগোল এবং সীমানার মানচিত্র সম্পূর্ণ নতুন করে আঁকার এক দীর্ঘমেয়াদি নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে। আর এই আগ্রাসনের মূল খেসারত দিতে হচ্ছে লেবানন সরকারকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, লেবাননের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোসেফাউন এবং বৈরুত সরকার শুরু থেকেই অনড় অবস্থানে ছিলেন যে— তারা লেবাননের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে ইরানের আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও স্বার্থ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখবেন। কিন্তু ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক লেবাননের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে বৈরুত সরকারের সেই অবস্থান চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। উল্টো ইসরায়েলের এই আক্রমণাত্মক নীতি হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক ও সামরিক ন্যারেটিভ বা প্রচারণাকেই আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে।
আল জাজিরাকে সামি নাদের বলেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই হিজবুল্লাহ মূলত পুরো লেবানন রাষ্ট্রকে এই প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধের আগুনে টেনে হিঁচড়ে নামিয়েছে। অথচ এই মুহূর্তে লেবানন সেনাবাহিনীর পক্ষে মাটির ময়দানে নেমে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া মোটেও সহজ নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, একদিকে হিজবুল্লাহ যেমন লেবাননের নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং নিজেদের অস্ত্র সমর্পণ করতে নারাজ; অপরদিকে, ইসরায়েলও দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার অজুহাতে পুরো অঞ্চলের ভৌগোলিক রূপরেখা বদলে দিতে তাদের ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
