ঢাকা রোববার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৬ ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৮ ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরী
Ad

এনসিপির সংবাদ সম্মেলন ২৪-এর অর্জন রক্ষা না হলে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, সময়ঃ ০৪.৫৪ এ.এম
এনসিপির সংবাদ সম্মেলন ২৪-এর অর্জন রক্ষা না হলে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি
www.dailyranggaprovat.com
রাঙা প্রভাত ডেস্ক।। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আপনারা (বিএনপি সরকার) প্রায়ই বলেন যে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাসে এর নজির রয়েছে। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করা যায়নি, তখনই একাত্তর সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা যদি রক্ষা করা না যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
 
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশগুলো বাতিল এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
 
গণভোটের রায় না মানলে বর্তমান বিএনপি সরকারকে অবৈধ বলা শুরু করবেন বলে জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, গণভোটের রায় না মানলে সেদিন থেকেই এই সরকারকে অবৈধ সরকার বলা শুরু করব। বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সব লক্ষণ ফুটে উঠছে। যদি এই সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই আমরা তাদের ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করব। আপনারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।
দলের মুখপাত্র অভিযোগ করেন, সরকার যে যে প্রক্রিয়াগুলো অবলম্বন করছে, এর মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারের জন্ম হয়। বিগত সময়ে যে ফ্যাসিবাদ দেখা গেছে, এখন সেই স্বৈরাচারের সব লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
 
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বারবার বিএনপিকে সংবিধানের কথা বলতে দেখি। অথচ প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যেকোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন।
 
ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।
 
এনসিপি মুখপাত্র বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু আপনাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আমরা সব অংশীজনদের সঙ্গে বসে কাজ করতে আগ্রহী। এত দ্রুত রাজপথে নামার পরিকল্পনা বিরোধী জোটের ছিল না; কিন্তু গণভোট নিয়ে যে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে, তাতে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। এটি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
 

» বিস্তারিত কমেন্টে «
facebook.com/dailyranggaprovat
dailyranggaprovat.com