বাগেরহাটে প্রতিমন্ত্রীর সামাজিক বনায়ন পরিদর্শন
কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাট জেলার কচুয়া ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় সৃজিত বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড.শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৭) জুলাই সকাল ১১টায় তিনি এই বাগান পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বনায়ন প্রকল্পের আওতাধীন গাছের পরিচর্যা, সামাজিক বনায়নের সামগ্রিক কার্যক্রম এবং বন সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের খোঁজখবর নেন। একই সাথে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।
উল্লেখ্য, 'সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাট'-এর অধীনে কচুয়া উপজেলার রাধাবল্লভ ইউনিয়নের নিমাই সেবআশ্রম হতে বাধাাল বাজার পর্যন্ত ২.৫ সিআরবি কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত স্ট্রিপ বাগানটির বাস্তবায়ন করছে ষাটগম্বুজ এসএফ এনটিসি। ২০২৪-২৫ আর্থিক সালের এই প্রকল্পে ৩০,০০০টি বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়েছে, যার মধ্যে মেহগনি, কড়ই, শীল কড়ই, বাবলা, গামার, জারুল, জলপাই, আমড়া, কাঁঠাল, নিম, আমলকি, বহেরা, হরিতকিসহ নানা ঔষধি ও ফলদ বৃক্ষ রয়েছে।এছাড়া কচুয়া উপজেলার মালিপটন এলাকার বিষখালি নদীর উপকূলীয় চরাঞ্চল বাগান সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে উপকূলীয় চরাঞ্চল ও সড়কের পাশে গড়ে ওঠা সামাজিক বনায়নের ব্লক ও স্ট্রিপ বাগানগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বনায়ন কর্মসূচির অগ্রগতি ও চারা গাছের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় উপকার ভোগীদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি বলেন, " সরকারের এই সবুজ বিপ্লবের অংশীদার হিসেবে স্থানীয় জনগণকে আরও বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।"
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন উপবন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সামাজিক বনবিভাগ শাহিন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বাগেরহাট মেজবাহ উদ্দিন, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মো: আলী হাসান ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বন বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে কচুয়া ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ৫০০০০ গাছের চারা রোপন করা হয়। এসব এলাকায় স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে এই সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলা হয়েছে। বাগানগুলোর মেয়াদ শেষে কাঠ ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রির লভ্যাংশের একটি বড় অংশ সরাসরি উপকারভোগীদের মাঝে বন্টন করা হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
