ঢাকা সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ ৫ ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২২ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

কলারোয়ায় শিশু হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, রোববার, সময়ঃ ০৯.৩৩ পি.এম

শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : কলারোয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে অরিদ হাসান (১২) নামে এক শিশুকে হত্যার উদ্দেশ্যে রক্তাক্ত জখম করে মৃত্যু হয়েছে ভেবে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আবু হুরাইরা ওরফে রাসেল বাবুর (২৫) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে ।

এ ঘটনায় ১৮ জুলাই অরিদের বাবা খায়রুল জামান বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সাতক্ষীরা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত রাসেল কলারোয়ার সিংগা গ্রামের রকিবুজ্জামান ওরফে লাল্টু মোল্যার ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাসেলের মাছের ঘের থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে খায়রুল জামানের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে গত ১৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাসেল মাছ ধরার কথা বলে কৌশলে অরিদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একই গ্রামের মুন্তাজ মোড়লের ছেলে মুনছুর জানান, দুপুর দেড়টার দিকে তিনি অরিদকে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে দেখেছিলেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে অরিদের নাম ধরে ডাকাডাকি করলে ভবনের পেছনে থাকা সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠে সাড়া পাওয়া যায়।

পরে সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা খুলে দেখা যায়, মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে অরিদ সেখানে পড়ে আছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হলে অরিদ পরিবারের সদস্যদের জানান, রাসেল মাছ ধরার কথা বলে তাকে নিয়ে গিয়ে ধারালো দা ও ইট দিয়ে আঘাত করে এবং মৃত ভেবে সেফটি ট্যাংকের ভেতরে ফেলে রেখে চলে যায়।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে সাতক্ষীরা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।