ঢাকা রোববার ০২ আগস্ট ২০২৬ ১৮ ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩৫ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

পারিবারিক অর্থায়নে গৃহহীন কৃষিশ্রমিকের নতুন ঘর, প্রশংসায় চেয়ারম্যান পরিবার

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, শনিবার, সময়ঃ ০৫.১২ পি.এম
পারিবারিক অর্থায়নে গৃহহীন কৃষিশ্রমিকের নতুন ঘর, প্রশংসায় চেয়ারম্যান পরিবার
www.dailyranggaprovat.com

শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল নিজের জমিতে একটি নিরাপদ পাকা ঘর। কিন্তু দারিদ্র্য সেই স্বপ্নকে বারবার অধরাই রেখেছিল। অবশেষে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসী গ্রামের গৃহহীন কৃষিশ্রমিক আবিদুল হক মোড়ল (৬১) পেলেন নতুন পাকা ঘর। হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, তাঁর ভাই শিল্পপতি ইমাম হোসেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই ঘর পেয়ে নতুন আশার আলো দেখছেন তিনি।

শনিবার (১ আগস্ট) সরেজমিনে খলসী গ্রামে গিয়ে নতুন ঘরের সামনে আবিদুল হক মোড়লের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজের এক টুকরো জমি থাকলেও সেখানে একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক আবিদুল জানান, ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় থাকেন এবং বাবা-মায়ের খোঁজ তেমন রাখেন না। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বার্ধক্যের কারণে আগের মতো কাজ করতে পারেন না। শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নানা রোগ-ব্যাধিও এখন তাঁর নিত্যসঙ্গী।

এমন অসহায় পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়ান চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবার। শুধু ঘর নির্মাণই নয়, প্রয়োজনে ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতাও করে আসছে তাঁরা।

নতুন ঘর পেয়ে আবিদুল হক মোড়ল বলেন, “এখন আর ঝড়-বৃষ্টির রাতে ঘর ভেঙে পড়ার ভয় থাকবে না। জীবনের শেষ বেলায় মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছি। আল্লাহ যেন চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারের সবাইকে ভালো রাখেন।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু আবিদুল নন, এর আগে একই পরিবারের অর্থায়নে অসহায় কৃষিশ্রমিক রবিউল ইসলামও পাকা ঘর পেয়েছেন। হেলাতলা ইউনিয়নের আরও অনেক দরিদ্র, অসহায় ও বিপন্ন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবার।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “সম্পূর্ণ পারিবারিক উদ্যোগে আমরা এলাকায় ২২টি ঘর নির্মাণ করছি। যেসব ঘরের কাজ শেষ হচ্ছে, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি চলমান মানবিক উদ্যোগ। অসহায় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে আমাদের পরিবার ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।”

তিনি আরও জানান, গণপতিপুর গ্রামে ৮ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ তাদের পারিবারিক অর্থায়নে চলমান রয়েছে। আবাসন সুবিধাসহ নান্দনিক এই কমপ্লেক্সটি এলাকার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া বেত্রবতী নদীর ওপর কোঠাবাড়ি-রায়টা অভিমুখী প্রায় ৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে একটি সুদৃশ্য ভাসমান পথচারী সাঁকোও নির্মাণ করেছে তাদের পরিবার, যা স্থানীয় মানুষের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে বছরের পর বছর ধরে দরিদ্র মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো নির্মাণের মতো কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানবিক এই উদ্যোগ অন্য বিত্তবানদেরও সমাজসেবায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা মনে করেন।