শিবিরকে আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য করবেন না
রাঙা প্রভাত ডেস্ক।। : রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে আবারও সরব হয়ে উঠেছে দেশের ছাত্ররাজনীতি। সাম্প্রতিক সহিংসতা, ক্যাম্পাস উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এবার কড়া বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে অতীতের মতো বড় আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হতে পারে তারা। তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। কর্মসূচিটি আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রশিবির। মিছিলটি দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শুরু হয়ে বায়তুল মোকাররম, পল্টন হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।সমাবেশে আজিজুর রহমান আজাদ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ধারাবাহিকভাবে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার দাবি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, নির্যাতন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিবিরকর্মীদের ওপর হামলা এবং তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার বিচার দাবি করে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব ঘটনার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে দ্রুত বিচার দাবি করেন বক্তারা।
আজাদ বলেন, অতীতেও একই ধরনের পরিস্থিতিতে কঠোর আন্দোলনের উদাহরণ রয়েছে। ১৯৯৩ সালের একটি সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখনও ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছিল, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে ওঠে।
সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয়, ছাত্রদল শুধু সহিংসতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা প্রতিপক্ষ সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তোলা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কমিটি গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা দাবি করেন, এসব কমিটিতে বিতর্কিত ও অতীতে অন্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব বক্তব্য ও কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে- ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। অতীতের মতো বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, দেশের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
