ঢাকা সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৬ ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরী
Ad

কলাপাড়া অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ কোডেক এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, সময়ঃ ০৬.৩৫ এ.এম
কলাপাড়া অন্তঃসত্ত্বা  গৃহবধূকে  শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ  কোডেক এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে
www.dailyranggaprovat.com

অশোক মুখার্জী, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেক'র ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে চুল ধরে মারধর সহ শারিরীক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে।  

শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউপি গন্ডামারী গ্রামে ওই গৃহবধুর নিজ বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রবাসী ওই গৃহবধূকে চুল ধরে কিল ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই গৃহবধূ হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন। 

হাসপাতালে শয্যায় আহত গৃহবধূ খাইরুন বেগম বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে পারি জমান তার প্রবাসী স্বামী নজির মোল্লা। আর অভাবের সংসারে রেখে যান তিন সন্তান ও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ খায়রুন বেগমকে। 

তবে বিদেশ গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখনো টাকা পাঠাতে পারেননি প্রবাসী নজির মোল্লা।  

ফলে দুই ছেলে এক মেয়ে ও পেটের অনাগত সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন এই গৃহবধূ। এরই মাঝে কিস্তি পরিশোধে প্রতি সপ্তাহে বাড়িতে গিয়ে হানা দিচ্ছিলেন কোডেক কর্মীরা। ফলে অভাবের মধ্যেও দুইটা কিস্তি পরিশোধ করেছেন তিনি। 

শনিবার দুপুরে ফের গণ্ডামারী গ্রামে ওই গৃহবধূর বাড়িতে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য প্রবেশ করেন ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির সহ আরো তিনজন। এ সময় গৃহবধূকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন ওই এনজিওর দুই নারী কর্মী। কিন্তু ঘরে অর্থ না থাকায় প্রবাস থেকে টাকা পাঠালেই দেওয়ার কথা বলেন খাইরুন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে বেধে রেখে আদায়ের কথা বলেন ম্যানেজার মনির হোসেন। 

খাইরুলের অভিযোগ, এ সময় তিনি অসুস্থতার কথা জানালে তাকে নারী কর্মীরা বাজে ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। এক পর্যায় তিনি এনজিও কর্মীদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বললে ম্যানেজার মনির তার চুলের মুঠি ধরে তাকে ঘরের বাইরে টেনে হিচরে বের করার চেষ্টা চালান।

কিন্তু তিনি শক্ত করে দরজা ধরে থাকলে সজোরে লাথি দিলে তিনি ছিটকে পড়ে যান। এরপরে নারীকর্মীরা তাকে এলোপাথাড়ি চড় থাপ্পর মারেন। পরে তিনি বমি শুরু করলে এনজিও কর্মীরা বাড়ি ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি  সদস্য মালা বেগম জানান, আমি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একটি সালিশ বৈঠকে ছিলাম। এসময় খবর পাই এনজিও কর্মীরা  অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর করেছে এবং তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে এনে ভর্তি করি। তবে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মার ধরের বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না বলে জানান  তিনি। 

আহত গৃহবধুর চাচি শাশুড়ি পরীবানু বলেন, ঘটনার সময় আমি প্রত্যক্ষ ছিলাম। বৌমা প্রথমে অনেক অনুরোধ করে বলেছে টাকা পাঠালেই বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করে দিবে। কিন্তু গর্ভবতী বধুকে অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের কথা বলে কোডেক ম্যানেজার। এ সময় খাইরুন তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বললে ম্যানেজার তার চুলের মুঠি ধরে টেনে ঘরের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করে। আর অন্য নারী কর্মীরা চড় থাপ্পড় মারে। উপায় না পেয়ে খায়রুন শক্ত করে দরজা ধরে থাকলেও তাকে লাথি মারে।

এ ঘটনায় খাইরুনের ভাসুর রফিক মোল্লা ক্ষুব্ধ হয়ে জানান, আমার ভাই প্রবাসে গিয়ে এক টাকাও পাঠাতে পারেনি। কিস্তি দিতে না পারায় তার ভাইয়ের বউয়ের উপর নির্যাতন চালিয়েছে এনজিও কর্মীরা। তাই হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

কলাপাড়া হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ববি মালকার বলেন, ওই গৃহবধূকে পেটে আঘাত করা হয়েছে। তার  আলট্রাসনোগ্রাম হয়েছে। পেটে চার মাসের  সন্তান  ভালো আছে। তবুও তলপেটে আঘাত জনিত কারণে তাকে ২৪ ঘন্টা হাসপাতালে  নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে কোডেক এনজিও ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমরা তাকে অফিসে আসতে বলেছি । তাকে কোন মারধর করা হয়নি। বহুদিন ধরে তিনি কিস্তি বকেয়া রেখেছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন এ বিষয়টি আমাদের কেউ অবহিত করেনি। তবে এটি ঘটে থাকলে দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের কাছে আসলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


» বিস্তারিত কমেন্টে «
facebook.com/dailyranggaprovat
dailyranggaprovat.com