ঢাকা মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৭ ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরী
Ad

৩৫০ বছরের ইতিহাস ধ্বংসের পথে কালীগঞ্জের ব্রহ্মময়ী শিব মন্দির

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, সময়ঃ ০২.২০ পি.এম
৩৫০ বছরের ইতিহাস ধ্বংসের পথে কালীগঞ্জের ব্রহ্মময়ী শিব মন্দির
www.dailyranggaprovat.com

মানিক ঘোষ, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের তৈলকূপ গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রহ্মময়ী শিব মন্দির’ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। প্রায় ৩৫০ বছরের পুরোনো এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ক্রমেই বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬৫৬ সালের দিকে নলডাঙ্গা রাজবংশের রাজাদের উদ্যোগে নির্মিত সাতটি মন্দিরের অন্যতম এই শিব মন্দির। ‘দেউল’ আকৃতির স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মন্দিরটির দেয়ালে পোড়ামাটির সূক্ষ্ম কারুকাজ এখনো প্রাচীন বাংলার শিল্পঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। বেগবতী নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির একসময় ছিল এ অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের অবহেলায় মন্দিরটির অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় বটগাছ ও আগাছা জন্ম নিয়েছে, যা মূল কাঠামোকে দুর্বল করে তুলছে। ইটের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে পলেস্তারা ও কারুকাজ খসে পড়ছে। চারপাশ ঘন ঝোপঝাড়ে ঢাকা থাকায় এটি বিষধর সাপের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে, ফলে দর্শনার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এলাকা।

তৈলকূপ গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন পাল বলেন, একসময় এই মন্দিরকে ঘিরে উৎসব-অনুষ্ঠানে মুখর থাকত এলাকা। এখন এটি ধ্বংস হতে দেখে খুব কষ্ট লাগে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে হয়তো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

স্থানীয় বাসিন্দা রাম দাস জানান, এটি শুধু একটি মন্দির নয়, আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়ভাবে সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এটি রক্ষা করা কঠিন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগের মাধ্যমে মন্দিরটি সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।


» বিস্তারিত কমেন্টে «
facebook.com/dailyranggaprovat
dailyranggaprovat.com