ঢাকা বুধবার ০৩ জুন ২০২৬ ২০ ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩৪ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ধানের ডোল

প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, রোববার, সময়ঃ ০৭.২৮ পি.এম
বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ধানের ডোল
www.dailyranggaprovat.com

মো: মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল : গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল বাঁশের তৈরি ধানের ডোল বা গোলা। একসময় গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চোখে পড়ত উঁচু মাচার ওপর রাখা বড় বড় বাঁশের ডোল। কৃষকের সারা বছরের কষ্টার্জিত ধান সংরক্ষণের প্রধান ভরসা ছিল এই ঐতিহ্যবাহী গোলা। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া ও সময়ের পরিবর্তনে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না এসব ধানের ডোল। ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই নিদর্শন।

বর্তমানে নড়াইলে পুরোদমে চলছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কৃষকরা ধান কেটে মাড়াই, সিদ্ধ, শুকানো, ধূলাবালু ও ময়লা পরিষ্কারসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করে ঘরে তুলছেন নতুন ফসল। একই সঙ্গে চলছে ধান সংরক্ষণের প্রস্তুতিও। একসময় এসব ধান সংরক্ষণের জন্য বাঁশের তৈরি ডোল ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিকের ড্রাম, টিনের কৌটা ও আধুনিক গুদাম ব্যবস্থা।

জানা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে দক্ষ কারিগরদের হাতে বাঁশ দিয়ে নিপুণভাবে তৈরি হতো এসব ধানের ডোল। গোল আকৃতির এই ডোলগুলো সাধারণত উঁচু বাঁশ বা কাঠের মাচার ওপর স্থাপন করা হতো, যাতে ধান নিরাপদে ও শুকনো অবস্থায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। শুধু সংরক্ষণ নয়, এটি ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্য ও কৃষকের স্বচ্ছলতারও প্রতীক।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে একাধিক ডোল দেখা যেত। নতুন ধান উঠলেই সেগুলো ভরে উঠত সোনালি শস্যে। কিন্তু বর্তমানে নতুন প্রজন্মের অনেকেই ধানের ডোল সম্পর্কে তেমন জানে না। তাদের কাছে এটি এখন শুধুই ইতিহাস কিংবা গল্পের বিষয়।

ডোল নির্মাণের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। আগে বিভিন্ন এলাকায় দক্ষ শ্রমিকরা এই কাজ করলেও বর্তমানে অধিকাংশই পেশা পরিবর্তন করে অন্য কাজে যুক্ত হয়েছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পও হারিয়ে যেতে বসেছে।

সচেতন মহলের মতে, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ধানের ডোল নির্মাণশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নাহলে অচিরেই গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য কেবল ছবিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।