পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩
বিশেষ প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নে নবম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া খাতুন (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আর্থিক লেনদেনের জেরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার এবং মরদেহ গুমের চেষ্টায় ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
আজ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
নিহত রিয়া খাতুন পাবনা সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মোঃ আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে। সে স্থানীয় মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে ও ঘটনার মূলহোতা মোঃ নাঈম, একই গ্রামের মোঃ শফিক শেখের ছেলে মোঃ ইয়াসিন শেখ এবং মোঃ শিমুল প্রামানিকের ছেলে মোঃ তুহিন প্রামানিক (১৭)। এই ঘটনায় জড়িত নাঈম শেখ নামের আরও এক সহযোগী পলাতক রয়েছে।
আর্থিক বিরোধ ও হত্যাকাণ্ড
পুলিশ ও প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের সাথে রিয়া খাতুনের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গতকাল সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রিয়া নাঈমের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে অবস্থানকালে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নাঈম ধারালো চাকু বের করে রিয়াকে ভয়ভীতি দেখায় এবং পরবর্তীতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
মরদেহ গুমে প্রাইভেটকার ব্যবহার
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর নাঈম তার সহযোগী ইয়াসিন, তুহিন ও নাঈম শেখকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। এরপর তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রিয়ার মরদেহ একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে দিয়ে আসে।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও গ্রেফতার
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পাবনার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ছুফি উল্লাহর সার্বিক নির্দেশনায় জেলা পুলিশের একাধিক ইউনিট ছায়া তদন্তে নামে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে থানা পুলিশ, ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) এবং ডিএসবি (জেলা বিশেষ শাখা) সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূলহোতা নাঈমসহ তার দুই সহযোগী তুহিন ও ইয়াসিনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত এবং মরদেহ বহনকারী সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
