ঢাকা মঙ্গলবার ০৯ জুন ২০২৬ ২৬ ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৪০ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ব্র্যাকের র‌্যালি আলোচনা সভা ও বৃক্ষ রোপন

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, সময়ঃ ০৮.১২ পি.এম
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ব্র্যাকের র‌্যালি আলোচনা সভা ও বৃক্ষ রোপন
www.dailyranggaprovat.com

জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) :  আশাশুনিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলার মধ্যাম চাপড়া খেয়াঘাট চত্বরে ব্র্যাক জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি ও রেইন ফর লাইফ প্রজেক্টের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।

ব্র্যাক প্রজেক্ট অপারেশন ম্যানেজার শফিকুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে ও এরিয়া ম্যানেজার তৃপ্তি সরদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে আলোচনা রাখেন, এরিয়া ম্যানেজার এনামুল হক, এরিয়া ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম, এরিয়া ম্যানেজার নজরুল ইসলাম, অবঃ সেনা সদস্য রবিউল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে এলাকার নারী-পুরুষ ও ব্র্যাক কর্মকর্তা-কর্মীদের অংশ গ্রহনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। 

বক্তাগণ বলেন, ব্র্যাক ৬৬ বিঘা ম্যানগ্রোভ বনায়নে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ বনায়নের ফলশ্রুতিতে বছরে শত শত টন কার্বন শোষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির রেইন ফর লাইফ প্রোজেক্টের আওতায় আশাশুনি উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত দুটি ম্যানগ্রোভ বনায়ন প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৬৬ বিঘা জমিতে প্রায় ৪০ হাজার ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ এবং ১,২৬০ কেজি বীজ ছড়ানোর মাধ্যমে উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বক্তাগণ আরও বলেন, পরিবেশবিদদের মতে, ম্যানগ্রোভ বন পৃথিবীর অন্যতম কার্যকর "ব্লু কার্বন" ইকোসিস্টেম। এসব বন বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে গাছের কাণ্ড, শিকড় এবং মাটিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পরিপক্ব ম্যানগ্রোভ বন প্রতি হেক্টরে বছরে গড়ে ৬ থেকে ৮ টন কার্বন ধারণ করতে পারে, যা কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে প্রায় ২২ থেকে ৩০ টনের সমতুল্য।

আশাশুনির ৬৬ বিঘা জমি প্রায় ৮.৮ হেক্টরের সমান। সে হিসেবে এই বনায়ন পূর্ণ বিকাশ লাভ করলে প্রতিবছর আনুমানিক ৫০ থেকে ৭০ টন কার্বন এবং প্রায় ১৮০ থেকে ২৬০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ ও সংরক্ষণ করতে সক্ষম হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কয়েক দশকে হাজার হাজার টন কার্বন মাটিতে ও জীববস্তুতে সঞ্চিত থাকবে। বনায়নের ফলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের গতি ও শক্তি কমিয়ে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদান, উপকূলীয় ভূমিক্ষয় রোধ এবং নতুন ভূমি গঠনে সহায়তা, মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।