বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ, দুইজন নারীসহ একাধিক ব্যক্তি আহত
রাঙা প্রভাত ডেস্ক : বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ছোপখালী এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী মোঃ হাবিবুর রহমান মোল্লা, পেশায় একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক। তিনি অভিযোগ করেন, বেতাগী থানাধীন ছোপখালী মৌজার পারিবারিক বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ও দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত শামিম মোল্লা লোহার রড নিয়ে বসতঘরে প্রবেশ করে হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে বাধা দিতে গেলে বাদী (হাবিবুর রহমান মোল্লা) ও তার স্ত্রী (আরজু বেগম) আহত হন।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরে বাড়ির উঠানে অন্য অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা, ও লাঠি সোটার সাথে বাইসাইকেলের ক্রাঙ্ক সেট সংযুক্ত করে নিয়ে দলবদ্ধভাবে হামলায় অংশ নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজনের হাতে থাকা গাবগাছের ভারী লাঠির আঘাতে বাদীর স্ত্রীর বাম হাত গুরুতরভাবে ভেঙে যায়। এছাড়া মোঃ তৈয়ব আলী মোল্লা ও সাদিয়া নামের আরও দুইজনের হাতের আঙুল ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। হামলায় উপস্থিত আরও কয়েকজন আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় অভিযুক্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করে এবং পরবর্তীতে খুন-জখমের হুমকিও দেয়। একপর্যায়ে বাদীর স্ত্রীর গলায় থাকা প্রায় ১৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় বেতাগী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশ, অনধিকার প্রবেশ, গুরুতর জখম, হত্যা চেষ্টা, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
