ভাইয়ের কাছে পাওনায় তুলে নিলো বৃদ্ধা বোনকে, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, সময়ঃ ১১.২৩ এ.এম
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি ॥ বরিশালের গৌরনদীতে ভাইয়ের কাছে টাকা পাওনার জেরধরে পুস্প রানী (৬০) নামের বৃদ্ধা বোনকে তুলে নিয়ে দুইদিন ধরে আটক রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। খবরপেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করেছে।
এঘটনায় সোমবার (৬ মার্চ) রাতে তিনজনের নামোল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন-বার্থী ইউনিয়নের বাউরগাতী গ্রামের কালু তফদার, মো. মিন্টু ও অপু রায়।
এরমধ্যে অভিযুক্ত মো. মিন্টু গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক বলে জানা গেছে। তার আসল নাম মিজানুর রহমান মিন্টু।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৫ মার্চ) সালতা গ্রামের প্রতাপ রায়ের স্ত্রী পুষ্প রানীকে বিএনপি নেতা মিন্টুর কথা বলে বাড়ী থেকে বার্থী বাসষ্ট্যান্ডে ডেকে নিয়ে যায় কালু তফাদার। এসময় মিন্টু তাকে (পুষ্প রানী) বলে যে, তোমার ভাইয়ের কাছে ১ লাখ টাকা পাওনা আছে। ওই টাকা না দিলে আমরা তোমাকে ছাড়বো না। পরবর্তীতে এই বিষয়ে সে (পুষ্প) কিছুই জানেনা বললেও বিবাদীরা তাকে ছেড়ে নাই। অভিযোগে আরো জানা গেছে, ভুক্তভোগী বৃদ্ধা একাধিকবার বাড়ি যেতে চাইলে বিএনপি নেতা মিন্টু তাকে বাড়ি ফিরে যেতে দেয়নি। পরে তার (মিন্টু) নির্দেশে ওই নারীকে বাউরগাতি গ্রামের কালুর বাড়িতে দুইদিন আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, পুষ্প রানীর ভাই শুশিলের কাছে স্থানীয় খায়রুল ইসলাম নামের একজন টাকা পাবে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে নিস্পত্তির জন্য থানা থেকে আমাকে বলা হয়। পরবর্তীতে আমরা শুশীলের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার বোন পুষ্প রানীর কাছে বিষয়টি জানাই। এসময় পুষ্প রানী আমাদের বলেন যে, শুশীলের সঙ্গে তার কোন যোগাযোগ নাই। পরবর্তীতে জানতে পারি শুশীলের সঙ্গে তার বোন পুষ্প রানীর যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি শুশীলের মেয়ে পুষ্প রানীর বাড়িতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা পুষ্প রানীকে জানিয়েছি যে, শুশীল বাড়িতে আসলে আমাদের যেন জানায়। কিন্তু শুশীলের যাতে টাকা দেওয়া না লাগে সেজন্য পুস্প রানীর কাছে থাকা শুশীলের মেয়েকে তার বাবার কাছে পৌঁছে দিয়েছে। যাতে আমরা তাদের কাউকে খুঁজে না পাই। বিষয়টি জানতে পেরে শুশীলের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য ওই নারীকে তার এক আত্মীয় বাড়িতে রাখা হয়। এখানে আটকে রাখার মত কোন ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, এব্যাপারে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
