ঢাকা বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই ২০২৬ ৮ ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৫ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

সরকারি বরাদ্দ বাঁচিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি, খাল পুনঃখনন শেষে ৩৪ লক্ষ টাকা কোষাগারে ফেরত

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময়ঃ ১২.১৭ পি.এম
সরকারি বরাদ্দ বাঁচিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি, খাল পুনঃখনন শেষে ৩৪ লক্ষ  টাকা কোষাগারে ফেরত
www.dailyranggaprovat.com

কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : সরকারি যেকোনো প্রকল্পের বরাদ্দ মানেই বাজেটের অতিরিক্ত খরচের অজুহাত কিংবা অনিয়মের অভিযোগ—এমন একটি প্রচলিত ধারণার বিপরীতে গিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা প্রশাসন। দুটি খালের পুনঃখাল খনন ও সংস্কারকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত বিপুল অঙ্কের অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী হাসান ।


​উপজেলা প্রকল্প দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপালপুর ও মঘিয়া ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুটি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প দুটিতে মোট বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৪২ টাকা। তবে স্বচ্ছতা ও সঠিক তদারকির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করায় এতে প্রকৃত ব্যয় হয় ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৩ টাকা। ফলে প্রকল্পের অব্যয়িত ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৯৯ টাকা কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসানের মাধ্যমে পুনরায় সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।


​প্রকল্পের আওতায় গোপালপুর ইউনিয়নের দড়িটানা থেকে বলেশ্বর নদীর সংযোগস্থল পর্যন্ত ১ কিলোমিটার এবং মঘিয়া ইউনিয়নের কুন্ডু বাড়ি থেকে স্বপন মাঝির বাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার কাঁঠালিয়া খাল সফলভাবে পুনঃখনন করা হয়।


​শুধু খননকাজে সীমাবদ্ধ না থেকে খালের পাড়ের পরিবেশ রক্ষায় দুই পাশে ৮০০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের পথ সুগম করতে খালের ওপর প্রয়োজনীয় পাইপ কালভার্ট ও কাঠের পুল নির্মাণ করা হয়েছে।


​কচুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কৃষ্ণ বলেন, "শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইউএনও মহোদয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজের গুণগত মান, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। সঠিক তদারকি ও সদিচ্ছার ফলেই কোনো ধরনের অপচয় ছাড়া বিশাল অংকের সরকারি টাকা বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।"


​এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, খাল দুটি দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি অনিয়মের সংস্কৃতি ভেঙে সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে সফলভাবে কাজ শেষ করায় কচুয়া উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় প্রশাসনে সততা ও স্বচ্ছতার এক বিরল নজির স্থাপন করল।