ঢাকা শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০ ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৭ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

২১ বছরেও পাকা হয়নি ইটের সড়ক, ভোগান্তিতে জনজীবন

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, সময়ঃ ০৬.৩৫ এ.এম
 ২১ বছরেও পাকা হয়নি ইটের সড়ক, ভোগান্তিতে জনজীবন
www.dailyranggaprovat.com

রফিকুল ইসলাম রনি :

 বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ  একটি ইটের সড়ক দীর্ঘ ২১ বছরেও পাকা হয়নি। বর্তমানে সড়কটিতে ইটের সলিং (এইচবিবি) নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে  ঐ এলাকার স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সহ জনসাধারণ । বর্ষা মৌসুমে  চলাচলে  ভোগান্তি বেড়ে যায় আরও দ্বিগুণ। ইটের সলিং সড়ক নির্মাণের পর প্রায় ২১  বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সড়কটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ইটের সড়ক থেকে পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) সড়কে উন্নতিকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

জানা গেছে,  উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর  ইউনিয়নের ইসলামপুর আলিম মাদ্রাসা থেকে আমতলা হয়ে বটতলা বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ বছর লোকজন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ইট দ্বারা নির্মিত সড়কটি। পূর্ব ইসলামপুর  গ্রাম, আর অন্য প্রান্তে রয়েছে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের কুড়িরচর গ্রাম  এই দুই প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন ইটের সলিং সড়কটি দিয়ে বেশিভাগ যাতায়াত করেন। ইসলামপুর আলিম মাদ্রাসার বেশিভাগ শিক্ষার্থী সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়াও আগরপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরাও ইটের সড়কটি দিয়ে চলাচল করে।  

২১ বছর আগে দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের চলাচলে সুবিধার জন্য সাবেক এমপি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক নির্মাণ করেছিলেন প্রায় ৭ ফুট প্রশস্তের ইটের সলিং সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একসময়ে সড়কটি দিয়েই চলাচল করতো ভ্যান, ইজিবাইক, মাল বোঝাই ট্রলিসহ বিভিন্ন যানবাহন। এখন সেই একসময়ের ব্যস্ততম সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচলে যুকি ব'লে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে জনসাধারণদের। সড়কটি দিয়ে হেটে হেটে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অতিরিক্ত সময় লাগছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ গর্ভবতী নারী ও রোগীদের।

এছাড়া এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনা, নেওয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার কৃষকদের। সময় মতো বাজার ধরতে পারছেন না তারা। তাই দ্রুতই সড়কটি ইটের সলিং থেকে পিচ ঢালাই সড়কে উন্নতিকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ভ্যানচালক স্বপন বলেন, এই সড়কের বিভিন্নস্থানে ইট ইঠে গিয়ে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

আগরপুর ডিগ্রি কলেজ শিক্ষার্থী ফাতেমা রোজ জোহরা  বলেন, সড়কটি অধিকাংশ জায়গাই ভাঙা। বিগত কয়েক বছরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। ছোট সময় থেকে এভাবেই দেখচ্ছি সড়কটি। এ সড়ক দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে আমাদের কলেজে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কটি উন্নতি করণ করা হোক।

শান্ত আকন বলেন, এটি পিচের সড়ক করা উচিত। এ সড়ক দিয়ে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সহ ইসলামপুর ও পাশ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের কুড়িরচর এলাকার হাজারো মানুষ চলাচল করে। বড় কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পাড়ায় পণ্য আনা নেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। 
 
ইজিবাইক চালক ছাইলু  বলেন, গ্রামের মানুষ নিয়ে আমাকে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থা থাকায় মাঝে মধ্যে যাত্রী নিয়ে আসতে পারি না। এই সড়কে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। এতে লোকসান দিতে হয় আমাদের।

স্থানীয় কৃষক রুহুল আমিন বলেন, সড়কটিতে ইটের সলিং দিয়েছিল  প্রায় ২১ বছর আগে। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে আমাদের। নিজেদের খেতের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। না হলে ভ্যান চালকেরা যেতে চায় না। দ্রুতই সড়কটি পিচ ঢালাইয়ের দাবি আমাদের।