আশাশুনির নওয়াপাড়ায় ভেড়ী বাঁধে ফাটল ধ্বস নিয়েছে, এলাকাবাসী আতঙ্কগ্রস্ত
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) : আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে বেতনা নদীর ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল ধ্বস নিয়েছে। ১০ দিন অতিবাহিত হলেও ব্যবস্থা গ্রহন না করায় প্রায় ৫০ হাত এলাকার মাটি ভেঙ্গে নদীতে পড়েছে। এলাকাবাসী আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে যেকোন মুহুর্তে মূল বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাঁধটির বড় অংশ গত ১৭ জুলাই ফাটল লাগে। খবর পেয়ে এদিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আঃ আলিম ভাঙ্গনস্থান পরিদর্শন করেছেন। পরদিন সাতক্ষীরা-০৩ আসনের এমপি হাফেজ রবিউল বাশার সরেজমিন বাঁধটি দেখতে আসেন। তখন বাঁধের ফাটল আধা হাত একহাত বসে গিয়েছিল। এমপি রবিউল বাশার দ্রুত সময়ে বাঁধ রক্ষার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পাউবোর এসও আঃ সালাম বাঁধের অবস্থা মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। বাঁধটির ফাটল রক্ষায় ২/৪ দিনের মধ্যে কাজ করা হবে বলে আশ্বস্থ করা হয়। কিন্তু ১০ দিন অতিবাহিত হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে ফাটল স্থানে ধ্বস লেগে নদীতে মাটি নেমে গেছে। মূল বাধের টপ স্পর্শ/ধ্বস নিতে এক বিঘত থেকে কোথও কোথাও দেড়/দুহাত অবশিষ্ট আছে।
উল্লেখ্য, নদীটিতে দীর্ঘকাল নওয়াপাড়া অংশে ভাঙ্গন চলে আসছিল। ভাঙতে ভাঙতে নওয়াপাড়া গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়ি, জমি নদী গর্ভে বিধ্বস্থ হয়েছে। ফলে এপারের জমি অপর পাড়ে গিয়ে উঠেছে। নদী খননের সময় ভরাট হওয়া স্থান পুরোপুরি না নিলেও আংশিক বেড় দিয়ে খনন কাজ করা হচ্ছিল। বর্ষাকাল এসে পড়ায় খননকাজের জন্য নদীতে দেওয়া আড়াআড়ি মাটির বাঁধ ছুটিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু নদী খননের জন্য নির্বাচিত এলাকার বাঁধ না ছুটিয়ে ভাঙ্গনকূল নওয়াপাড়ার অংশে বাঁধ ছুটানোর ফলে নওয়াপাড়ার পাড়েই নদী গর্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে খননের সময় অপর পাড়ে যেনতেন ভাবে খননকাজ শুরু করা হলেও শেষ করা হয়নি। ফলে নওয়াপাড়ার অংশই এখন নদীতে পরিণত হয়েছে। অপর পাড়ে ভরাট থাকায় নদীর স্রোত সরাসরি নওয়াপাড়ার বাঁধে আছড়ে পড়ায় তীর ভাঙ্গন শুরু হয় এবং বর্তমানে ২/৩ শত হাত ভেড়ী বাঁধ বিপদ সংকুল অবস্থায় রয়েছে। প্রতি নিয়ত ফাটল বড় হচ্ছে। দ্রুত রক্ষার ব্যবস্থা না করলে যেকোন মুহুর্তে বাঁধটি ভেঙ্গে যেতে পারে। বাঁধ রক্ষা না করা গেলে বুধহাটা ইউনিয়ন, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শত শত গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি, মৎস্য ঘের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
