ঢাকা শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৬ ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩৩ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

ফারজানার স্মৃতি রক্ষার্থে কাশিবাটি শিক্ষকদের সাথে বন্ধু ফোরামের মতবিনিময়

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময়ঃ ০৯.১৩ পি.এম
ফারজানার  স্মৃতি রক্ষার্থে কাশিবাটি শিক্ষকদের সাথে  বন্ধু ফোরামের  মতবিনিময়
www.dailyranggaprovat.com

সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নে কাশিবাটি গ্রামে  ৬৯ নং কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী ফারজানা( ৯) রোল নং ১   কে  নির্মমভাবে হত্যা   মৃত্যুর ঘটনা পর কালিগঞ্জ বন্ধু ফোরাম নেতৃবৃন্দ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির   সভাপতির সাথে মতবিনিময়  করেন।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১২ টায়  কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন  কালিগঞ্জ বন্ধু ফোরামের সভাপতি ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোস্তফা আখতারুজ্জামান পল্টু, বন্ধু ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদুর রহমান, বন্ধু  ফোরামের কোষাধাক্ষ ও কালিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, সাংবাদিক আবুল কালাম বিন আকবার, এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম , বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ নেওয়াজ, লতিফা রানী, আলমগীর হোসেন, ফাতেমা পারভীন, নাজমা খাতুন, ও রুমি পারভীন, সভায় শিশু  ফারজানার হত্যার ঘটনায় সকলেই দুঃখ প্রকাশ করে তার আত্মার শান্তি কামনায়  এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন।  বন্ধু ফোরামের নেতৃবৃন্দ নিহত ফারজানার  স্মৃতি রক্ষার্থে  বিদ্যালয়ে  একটি স্মৃতিফলক স্থাপনের জন্য প্রস্তাব করেন। এবং সেটি সকলের সম্মতিক্রমে করা যেতে পারে। 

গত ২০ জুলাই  কালিগঞ্জ উপজেলার  কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী ফারজানা সকালে সকলের আগে  স্কুলে আসে  এ সময় শিক্ষকরা স্কুলে না আসায় ফারজানা    স্কুলের বেঞ্চে ব্যাগ রেখে স্কুলের সামনে ঝাল মুড়ি বিক্রেতার কাছে যেয়ে ঝাল মুড়ি খেতে,  এক পর্যায়ে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় না।  স্কুল ছুটির পর ফারজানা বাড়ি না যাওয়ায়  ফারজানা কে  পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এক পর্যায়ে    এলাকায় মাইকিং করা হয়। কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা পিতা  খান  ইমামুল  পাওয়া যাচ্ছে না। 

 স্কুল ছুটির পরে সময় যত গড়িয়ে যায় পরিবারের তত দুশ্চিন্তা ও টেনশন বাড়তে থাকে   । স্থানীয়  সূত্রে জানা যায় প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার সকালে ফারজানা বিদ্যালয়ে গিয়ে বেঞ্চে বই রেখে বিদ্যালয়ের সামনে একটি ঝালমুড়ির দোকানে যায়। অভিযোগ রয়েছে দোকান পরিচালনাকারী সুমা বেগম কৌশলে শিশু ফারজানা কে দোকানের পিছনে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। ছুটির পর ফারজানা কে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। স্থানীয়রা জানায় বিকাল থেকে সুমা বেগমকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়দের সন্দেহ  আরো বাড়লে তারা ঝাল মুড়ি বিক্রেতা সুমা বেগমের বাড়িতে তল্লাশি চালায়।এসময় একটি ওয়ার্ড ড্রয়ের ভেতর থেকে শিশু ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা  সুমা বেগমকে   গণপিটুনি দেয় এতে ঘটনাস্থলে সে মারা যায়। ঘরে  আগুন দেয়, পরে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এনে  উভয়ের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সুরতাল রিপোর্ট তৈরি করে থানায় নিয়ে যান। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা  মর্গে প্রেরণ করেন।  পুলিশ  ফারজানার হত্যার ঘটনা উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে । এই ঘটনায় পরিবারসহ এলাকা জুড়ে শোকের মাতম বিরাজ করছে। নিহত ফারজানার  স্কুল ব্যাগ  এখনো স্কুলে সংরক্ষিত আছে।  গত সোমবার কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে  ফারজানার আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।দোয়া  অনুষ্ঠানের  বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী শিক্ষক অভিভাবক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।  এ ধরনের হত্যাকান্ড যাতে আর না ঘটে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। ফারজানার মৃত্যুতে তার স্মৃতি রক্ষার জন্য একটি স্মৃতিফলক স্থাপনে  বন্ধু ফোরামের এই উদ্যোগকে স্কুল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতার আশ্বাস  দিয়েছেন।