ঢাকা বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২১ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় ঐতিহ্যবাহী আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, সময়ঃ ১১.৫৩ এ.এম
জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় ঐতিহ্যবাহী আলহাজ্ব  সারোয়ার খান কলেজ
www.dailyranggaprovat.com

তেরখাদা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনা -৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল তার নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া ঐতিহ্যবাহী আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করে তাঁর কথা রাখলেন।  

তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দিঘলিয়া উপজেলা সর্বস্তরের মানুষ।

জানাযায়, আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী গ্রামটি পাঁচশত বছরের প্রাচীন একটি জনপদ। নীতিকবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, নাট্যকার শচীন সেনগুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গের এক সময়ের মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন, অবিভক্ত ভারতের কৃতি শিক্ষার্থী কুমুদ বন্ধু দাশ, আমেরিকা প্রবাসী পরমাণু বিজ্ঞানী সৈয়দ ফজলে রাব্বিসহ বৃটিশ বিরোধী গুনী ব্যক্তিদের পদচারণায় ধন্য ঐতিহাসিক সেনহাটী গ্রামে এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯২ সালে আলহাজ্ব সারোয়ার খান সাহেবের আর্থিক অনুদান ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ৪ একর ৭১ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে রয়েছে চারদিক দিয়ে প্রাচীর বেষ্টিত একটি চারতলা বিশিষ্ট আইসিটি ভবন, তিনতলা বিশিষ্ট একটি অনার্স ভবন, দুইতলা বিশিষ্ট একটি বিজ্ঞান ও কারিগরি ভবন, দুইতলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, সুদৃশ্য খেলার মাঠ  ও  আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, একটি সুদৃশ্য শহীদ মিনার ও মসজিদ। এছাড়াও সিঁড়ি বাঁধানো একটি পুকুর, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মাঠ এবং হোস্টেল ভবনের জন্য কলেজের সামনে রয়েছে আলাদা জমি। কলেজটিতে রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ । এ কলেজটি সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এখানে বিএনসিসি, রোভার ও রেঞ্জার এবং রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট চালু আছে। ৩৪ বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ধারাবহিকভাবে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে আসছে। অত্র কলেজে ০১ জন শিক্ষক পিএইচডি ও ০৩ জন শিক্ষক এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে একজন শিক্ষক পিএইচডি গবেষণারত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছে যা বর্তমান সরকারের নীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

কলেজটি ১৯৯৫ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পর্যায়ে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ অধিভূক্তি হয় এবং ২০০০ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) বিভাগসহ ১৯৯৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি (পাস) ও ২০১০ সালে ৫টি বিষয় (রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং) অনার্স কোর্স অধিভূক্তি হয়ে কোর্সগুলো বর্তমানে চালু আছে। কলেজটিতে বর্তমানে সহস্রাধিক  শিক্ষার্থী রয়েছে। অত্র কলেজের সকল পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। কলেজটি জন্মলগ্ন থেকে বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় ফলাফলের দিক দিয়ে খুলনা জেলার বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে আসছে। এ কলেজ থেকে প্রতি বছরই অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিগ্রি অর্জন করে অনেকেই উচ্চপদে কর্মরত আছেন। শিক্ষা ছাড়াও ক্রীড়া, রোভারিং, ইংরেজী ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে এটি প্রথম সারির একটি মানসম্মত কলেজ। 

অথচ অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় যে উক্ত উপজেলার সর্বশ্রেষ্ঠ এবং জাতীয়করণের সকল শর্ত পূরণের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিগত আমলে আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজটি জাতীয়করণের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেও তৎকালীন সরকার বিষয়টিকে আমলে নেননি। 

এই বৈষম্যের বিষয়টি জানতে পেরে এবং এ কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ হওয়ায় খুলনা ৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল 

কলেজে অনুষ্ঠিত এক সভায় কলেজটির জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং পরবর্তীতে নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেন। নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কলেজটি জাতীয়করণের যাবতীয় দায়িত্ব নেন। কাজ করছেন এবং কয়েকধাপ  এগিয়ে গেছেন বলে জানা যায়।

আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু করায়  খুলনা ৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল  কে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষাক কর্মচারীর ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দিঘলিয়াবাসী বলছে, সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল এমন একজন এমপি যিনি  কথা দিলে কথা রাখতে জানেন ।  আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ জাতীয়করণ প্রক্রিয়া শুরু করা তারই প্রমাণ।