ঢাকা রোববার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৬ ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৮ ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরী
Ad

জিন-জাদুর ক্ষতি থেকে বাঁচতে করণীয়

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময়ঃ ০৯.৫১ এ.এম
জিন-জাদুর ক্ষতি থেকে বাঁচতে করণীয়
www.dailyranggaprovat.com

মানুষের ক্ষতি করার জন্য শয়তান বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে দুষ্ট জিন ও দুষ্ট মানুষকে। এসব কারণে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাত দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষ পাপে জড়িয়ে দুনিয়া ও আখেরাত নষ্ট করে। এ জ

ন্য রাসুল (সা.) সকাল-সন্ধ্যা পাঠের জন্য কিছু আমল শিখিয়েছেন। এসব দোয়া-আমল মানুষের আত্মার খোরাক, দুশ্চিন্তা দূরীভূতকারী এবং অফুরান কল্যাণ লাভের মাধ্যম। কিছু দোয়া ও জিকির রয়েছে যা আদায় করার সর্বোত্তম সময় হলো সকাল-সন্ধ্যা। এমনকি রাসুল (সা.) দিন-রাতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর জিকিরে বেশি ব্যস্ত থাকতেন।

এক. আয়াতুল কুরসি। আয়াতুল কুরসি অতি ফজিলতপূর্ণ এক আমল। কোনো ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় একবার আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে পাঠকারী পুরো দিন-রাত জিনের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবে। রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করবে সে এর মাধ্যমে সন্ধ্যা পর্যন্ত (আল্লাহর) হেফাজতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা তেলাওয়াত করবে সে ব্যক্তি এর মাধ্যমে সকাল পর্যন্ত (আল্লাহর) হেফাজতে থাকবে (তিরমিজি : ২৮৭৯)। কেউ রাতে নিদ্রায় যাওয়ার সময় পড়লে শয়তান তার নিকটবর্তী হবে না (বুখারি : ২৩১১)। এমনকি যে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকে না। (বুলুগুল মারাম : ৩২৬)

দুই. তিন কুল। কুরআন মাজিদ মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। কুরআনের অতিগুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলোর অন্যতম তিন কুল। তিন কুল মানে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস। যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস পাঠ করবে তা পাঠকারীকে সবকিছুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেবে। (আবু দাউদ : ৫০৮২)তিন. সায়্যিদুল ইসতিগফার বা শ্রেষ্ঠ ইসতিগফার। কোনো ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সায়্যিদুল ইসতিগফার একবার পাঠ করলে সে ওই দিন বা রাতে মৃত্যুবরণ করলে সুনিশ্চিত জান্নাতি হবে (বুখারি : ৬৩০৬)। সায়্যিদুল ইসতিগফার হলো- ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, খালাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতাতু। আউজু বিকা মিন শাররি মাসানাতু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবউ লাকা বিজাম্বি। ফাগফির লি, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক, আপনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আর আমি আমার যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার প্রদত্ত নেয়ামতের স্বীকার করছি। আর আপনার কাছে আমার পাপের স্বীকৃতিও প্রদান করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।’


চার. যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নে বর্ণিত দোয়াটি তিনবার করে পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। দোয়াটি হলো- ‘বিসমিল্লাহ-হিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম, অর্থাৎ শুরু করছি আল্লাহর নামে; যাঁর নামের সঙ্গে আসমান এবং জমিনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী’ (তিরমিজি : ৩৩৮৮)। এ ছাড়া আরও অগণিত ফজিলতপূর্ণ আমলের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ছোট-বড় সব আমল করার তওফিক দান করুন।

» বিস্তারিত কমেন্টে «
facebook.com/dailyranggaprovat
dailyranggaprovat.com