সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার চেষ্টা
রাঙা প্রভাত ডেস্ক।। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় সাপের কামড়ে এক যুবকের মৃত্যুর পর দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে ঝাড়ফুঁক করে জীবিত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত এইচএম সায়েম (২৭) উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজমাথা এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাভার্ড ভ্যানচালক ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থল ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকায় তাকে সাপে কামড় দেয়। এরপর কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছালেও ধীরে ধীরে তার শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গুরুত্বর অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগ করেন। পরপর দুইবার এন্টিভেনম দেওয়া হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরদিন শুক্রবার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে স্বজনরা তাকে দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন।
তাদের বিশ্বাস, অলৌকিকভাবে সায়েম আবার জীবিত হতে পারেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতুহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় উৎসুক জনতা নিহতের বাড়িতে ভিড় করছেন।
নিহতের স্বজন জুয়েল হোসেন মনে করেন, চিকিৎসকরা সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেছেন। তবে আমরা আশা ছাড়িনি। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় অলৌকিক কিছু ঘটতে পারে, এই বিশ্বাস থেকেই আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ঝাড়ফুঁক দেখতে আসা চন্দ্রশেখর মন্ডল বলেছেন, সকালে শুনেছি সাপের কামড়ে একজন লোক মারা গেছে। তবে পরে শুনতে পাই মৃতদেহ ঝাঁড়ফুক করা হচ্ছে জীবিত করার জন্য। তারপর এই ঘটনা নিজ চোখে দেখতে এসেছি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনজুর এ এলাহী জানান, ওই ব্যক্তিকে যে সাপ কামড় দিয়েছে সেটি হয়তো খুবই বিষধর জাতের। সাপের কামড়ের রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এন্টিভেনম প্রয়োগই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণের পরও রোগীকে বাঁচানো না গেলে অন্য কোনো পদ্ধতিতে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
