ঢাকা রোববার ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৯ ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩০ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

ডুমুরিয়ায় তিন মণ ঘোড়ার মাংসসহ আটক-১, তিন মাসের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, সময়ঃ ১১.১৪ পি.এম
ডুমুরিয়ায় তিন মণ ঘোড়ার মাংসসহ আটক-১, তিন মাসের কারাদণ্ড
www.dailyranggaprovat.com

গৌতম রাহা, ডুমুরিয়া (খুলনা) : খুলনার ডুমুরিয়ায় বিষাক্ত ও জবাইকৃত ঘোড়ার মাংসসহ আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে এসআরআরবি (র‍্যাব-৬)। পরবর্তীতে পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর পোড়াবাড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্মে’ এ অভিযান পরিচালিত হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ মাহমুদ কাঞ্চনপুর এলাকার মৃত লুৎফর রহমান মাহমুদের ছেলে।

পুলিশ ও অভিযান সূত্রে জানা যায়, এসআরআরবি (র‍্যাব-৬) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদের নির্দেশনায় ও অফিসার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে র‍্যাবের একটি অভিযানিক দল কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তিনটি জবাই করা ঘোড়ার প্রায় তিন মণ মাংস এবং একটি জীবিত ঘোড়াসহ মূলহোতা পলাশ মাহমুদকে হাতেনাতে আটক করে। তবে আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সহযোগীরা টিনের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২৪ অক্টোবর শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আশরাফুল কবির, এসআরআরবি (র‍্যাব-৬)-এর সঙ্গীয় ফোর্স ও ডুমুরিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থলে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় 'পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৯'-এর ১৬ (ক) ধারায় সাজাপ্রাপ্ত পলাশ মাহমুদকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিচার কাজ শেষে জব্দকৃত মাংস মাটির নিচে পুঁতে বিনষ্ট করা হয় এবং জীবিত ঘোড়াটিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনছুর আলী শেখের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাজাপ্রাপ্ত পলাশ মাহমুদ স্বীকার করেছে, সে ও তার চক্রটি এর আগেও অন্তত ১৬টি ঘোড়া জবাই করে অসদুপায়ে বিভিন্ন স্থানে মাংস বিক্রি করেছে।

অভিযানের বিষয়ে এসআরআরবি (র‍্যাব-৬) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদ বলেন, "অপরাধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ঘোড়া জবাই করে অসদুপায়ে সেই মাংস গরু বা খাসির মাংস বলে বিভিন্ন স্থান ও হোটেলে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত একটি আভিযানিক দল পাঠাই এবং হাতেনাতে চক্রটির মূল হোতাকে আটক করতে সক্ষম হই। এ ধরনের অসাধু ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আশরাফুল কবির সাংবাদিকদের জানান, "জব্দকৃত মাংস গুলো ঘোড়ার মাংস। নিয়মবহির্ভূত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা এই মাংস গুলো বিষাক্ত ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। আইন অনুযায়ী মাংস গুলো মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়েছে।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।