ঢাকা শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৮ ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৯ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

​কচুয়ায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে দিনমজুরের মৃত্যু, কচুরিপানা দিয়ে লাশ গুমের চেষ্টা

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, সময়ঃ ১২.৪৪ পি.এম
​কচুয়ায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে দিনমজুরের মৃত্যু, কচুরিপানা দিয়ে লাশ গুমের চেষ্টা
www.dailyranggaprovat.com

আয়শা সিদ্দিকা বুলু, ​কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : ​বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় বিলের ভেতর পাতানো অবৈধ কারেন্ট জালের বিদ্যুৎ সংযোগে পৃষ্ট হয়ে আমজাদ শেখ (৫৫) নামের এক দিনমজুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী বেড়ের ভিতর কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

​শুক্রবার (বা সংশ্লিষ্ট দিন) রাতে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আমজাদ শেখ প্রতাপপুর গ্রামের জলিল শেখের ছেলে।

​স্থানীয় ও নিহত পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাতে আমজাদ শেখ বাড়ির দক্ষিণ পাশের মাঠে ‘কোচ’ দিয়ে মাছ কোপাতে যান। ওই এলাকার মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে মাহবুব মোল্লা ওরফে ফেলু রাতের বেলায় মাছ ধরার জন্য বিলে অবৈধ ‘ভোটা জাল’ (কারেন্ট জাল) পেতে রাখেন এবং সেই জালে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন। মাছ কোপানোর সময় অসাবধানতাবশত আমজাদ শেখ ওই জালের সংস্পর্শে এলে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

​অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানতে পেরে গভীর রাতেই জালের মালিক মাহবুব মোল্লা ওরফে ফেলু নিহতের মরদেহটি স্থানান্তরিত করে কিছু দূরে বেড়ের ভেতর কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে গুম করার চেষ্টা চালান।

​এদিকে রাতভর আমজাদ শেখ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন সারারাত খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মাহবুব মোল্লার বাড়ির দক্ষিণ পাশে বেড়ের ভেতরে কচুরিপানা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় আমজাদ শেখের মরদেহ দেখতে পান। পরে এলাকাবাসী সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়।

​সংবাদ পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, “ঘটনাটি শোনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

​ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত মাহবুব মোল্লা ওরফে ফেলুর বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।