তালাক : নিকৃষ্টতম হালাল কাজ
রাঙা প্রভাত ডেস্ক : পুরুষ ও নারীর সুন্দর সম্পর্কের নাম বিয়ে। বিয়ের মাধ্যমে সৌহার্দপূর্ণ দাম্পত্য জীবনে উৎসাহ দেয় ইসলাম। তবে দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যখন ভারসাম্যহীন অবস্থা, পারস্পরিক মনোমালিন্য ও সাংসারিক তিক্ততা দেখা দেয়, তখন একত্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য বিয়ের চুক্তির অবসান ঘটানোর সুযোগ ইসলাম রেখেছে। ইসলামে তালাকের ব্যবস্থা রাখা হলেও তালাক প্রদানে কখনোই উৎসাহ দেওয়া হয় না। এটা নিতান্তই নিরুপায় অবস্থা থেকে উত্তরণের একটা অপছন্দনীয় পথ। তালাক মানে বন্ধনমুক্ত করা। পরিভাষায় স্ত্রীকে বিয়ের বন্ধন থেকে মুক্ত করা। বিয়ের বন্ধন ছিন্ন করা সমাজের যেমন কারও কাছে কাম্য না, তেমনি ইসলামেও কাম্য না।
ইসলামে এটাকে বলা হয়েছে ‘সর্বনিকৃষ্ট হালাল’। হজরত মুআররিফ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে হালাল বিষয়ের মধ্যে তালাকের চেয়ে অধিকতর ঘৃণিত আর কিছু নেই’ (আবু দাউদ : ২১৭৭)। আল্লামা তীবি (রহ.) বলেন, তালাক ইসলামে বৈধ হলেও তা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়, কেননা শয়তানের কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো। সুতরাং শয়তানের প্রিয় কাজ আল্লাহর কাছে কখনো পছন্দনীয় হতে পারে না।
তালাকের প্রকৃতি ও স্বভাবগত বিধান হলো তা হালাল, কিন্তু ওটাকে যখন পাপের সঙ্গে সংমিশ্রণ করা হয়, তখন তা হয় আল্লাহর কাছে অপ্রিয়। যেমন মানুষ অন্যায় ও অযাচিতভাবে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ফেলে, অসময়ে স্ত্রীকে তালাক দেয়, শরিয়ত সীমালঙ্ঘন করে একই সঙ্গে একাধিক তালাক দিয়ে দেয় ইত্যাদি। তালাক বৈধ হওয়া সত্ত্বেও হারাম ও বেদাত পন্থায় তা প্রয়োগের কারণে তা হয় আল্লাহর কাছে অপ্রিয় ও অপছন্দনীয়। অথবা তালাকের দ্বারা উভয়ে যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের সন্তান-সন্ততি ও পরিবার যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি অনেকের জীবন বিপন্ন হয়ে ওঠে তখন তা হয় আল্লাহর কাছে অপ্রিয়।
