রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক সাড়া
রাঙা প্রভাত ডেস্ক।। একদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় আশার আলো, অন্যদিকে দেশের ভেতরে তীব্র ভোগান্তি-জ্বালানি পরিস্থিতি এখন যেন দুই ভিন্ন বাস্তবতার গল্প বলছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে বিশেষ ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মিললেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সংকট এখনো কাটেনি।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আশ্বাস দিয়েছেন- রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনেক চালক ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সময়মতো তেল পাচ্ছেন না। সীমিত সরবরাহের কারণে পাম্পগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
সংকটকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। ফরিদপুর-এর ভাঙ্গায় একটি ফিলিং স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে গাইবান্ধা ও নেত্রকোনা-তেও তেলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ও মাঝে মাঝে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে প্রশাসন মাঠে নেমেছে। নারায়ণগঞ্জ-এর সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি জব্দ করা হয়েছে। দোষীদের জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে।
সংকট মোকাবিলায় কিছু এলাকায় নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। রাজবাড়ী-এর পাংশায় পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে, যেখানে গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করে নিয়ন্ত্রিতভাবে তেল দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানির মান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো পর্যায়ে মান যাচাই বাধ্যতামূলক না হওয়ায় অনেক সময় ভোক্তাদের অভিযোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা সরবরাহের শুরু থেকেই মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
