ঢাকা বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬ ২৮ ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১২ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

না থেকেও বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময়ঃ ০৭.১৯ এ.এম
না থেকেও বিশ্বকাপে বাংলাদেশ
www.dailyranggaprovat.com

রাঙা প্রভাত ডেস্ক :

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২
বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে কবে খেলবে বাংলাদেশ? আদৌ কি খেলতে পারবে! কেন বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় না? ফুটবলবোদ্ধাদের কাছে এর উত্তর সহজ হলেও, সাধারণ সমর্থকের এটা দুর্ভেদ্য ঠেকে। বিশ্বকাপের বছরে আফসোস আরও বাড়ে। রাস্তার মোড়ে চা দোকানের আড্ডায় কিংবা অফিস-আদালতে কান পাতলে ভেসে আসে আহা আমরা কবে বিশ্বকাপে খেলব!

৩২ থেকে এবার ৪৮ দেশে উন্নীত হয়েছে আসর। দলের সংখ্যা, ম্যাচ সংখ্যা, ভেন্যু কিংবা আয়োজক (তিন দেশ)- সবখানে এর ব্যাপ্তি বাড়লেও বাংলাদেশের গায়ে এর প্রভাব পড়েনি। সেই ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাছাইপর্ব খেলা লাল সবুজের দল; ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপেও খেলেছে সেই বাছাইপর্বই। অথচ বেশিদিন আগের কথা নয়, ২০১৫ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮ সামনে রেখে বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে জর্দানের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। এক দশকের ব্যবধানে জর্দান এবার বিশ্বমঞ্চে। বাংলাদেশ আটকে আছে বাছাইপর্বের বেড়াজালে।

ফিফার সদস্য সংখ্যা ২১১। এর মধ্যে ১৬৩ দেশই রয়েছে বিশ্বকাপের বাইরে, বাংলাদেশ সেই তালিকার একটি। সবার ভাগ্যে বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ মিলবে বিষয়টা এমন নয়। তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ খেলবে- এমন ভাবনা নিশ্চয়ই দোষের নয়। বিশ্বকাপে না খেলার খেদ হয়তো থাকতে পারে; তাই বলে বিশ্বকাপে যে একেবারে বাংলাদেশ নেই তাও নয়। বরং অংশ নেওয়া ৪৮ দেশের চেয়ে অনেকাংশে এগিয়ে বিশ্বকাপে না খেলা দেশটি। আর সেটা সম্ভব হয়েছে ফুটবলের প্রতি বাংলার সমর্থকদের অকৃত্রিম ভালোবাসায়। যেখানে সেতুবন্ধের কাজটি করেছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।

দেশ স্বাধীনের তিন বছরের মাথায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সদস্য পদ (১৯৭৪ সালে) লাভ করে বাংলাদেশ। সদস্য হওয়ার ১১ বছর পর বিশ্বকাপের আঁচ গায়ে লাগে। বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিতে সব দলকেই বাছাইপর্বে খেলতে হয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ১৯৮৫ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলে লাল-সবুজরা। এরপর আর ছেদ পড়েনি। গেল ৪০ বছর ধরে টানা বাছাইপর্ব খেলে যাচ্ছে এ দেশের ফুটবলাররা। যদিও সাফল্যের হার বড় নয়, তবে অংশ নেওয়াও তো কম গর্বের নয়। 
  
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলে না- এটা কেবল কাগজে-কলমের হিসাব। বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মেসি, রোনালদো, ন্যুয়ার, নেইমার, এমবাপেরা মাঠের লড়াইয়ে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করে পুরো ফুটবল বিশ্বের, পুরো ফুটবল সম্প্রদায়কে ধারণ করে দেশটি। মাঠের বাইরে বসে খেলে বাংলাদেশ। মন-প্রাণ উজাড় করে দূরদেশ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, স্পেন, জার্মানি কিংবা ইতালি, ইরানের মতো দলকে আকণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে। ভিনদেশের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলা দেখে তারা। ভিনদেশের পতাকা বাড়ির আঙিনা থেকে পথের ধার, এমনকি বাড়ির ছাদেও শোভা পায়। ভিনদেশের প্রতি অকৃত্রিম, অনিঃশেষ ভালোবাসাপ্রবণ এমন ফুটবল উন্মাদ জাতি অন্য কোথাও মেলা ভার!