তেরখাদায় চিত্রা নদীর উপর ব্রিজ নির্মানের দাবিতে মানববন্ধন
তেরখাদা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার অবহেলিত জনপদ হিসেবে পরিচিত ৩নং ছাগলাদাহ ইউনিয়নের কুমীরডাঙ্গা-গাজীপুর নামকস্থানে চিত্রা নদীর উপর পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ রাস্তায় নেমেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অবহেলার প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারণ শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুর ২টার দিকে কুমীরডাঙ্গা বাজার এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন এলাকার কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কুমীরডাঙ্গা-গাজীপুর এলাকায় চিত্রা নদীর উপর একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের প্রতি জোর দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, চিত্রা নদীর দুই পাড়ে বসবাসকারী হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাত্রা আজও একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ ও কাঠের সাকোর উপর নির্ভরশীল। নদীর পূর্বপাড়ে নির্ধারিত স্থানে রয়েছে কুমীরডাঙ্গা বাজার, কুমীরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইছামতি বাজার, ছাগলাদাহ ইউনিয়ন আদিলউদ্দিন স্মরণিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে পশ্চিম পারে রয়েছে হাড়িখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মন্ডলগাতী কমিউনিটি ক্লিনিক, গাজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীররাত পর্যন্ত নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের এই সাকো ব্যবহার করে চলাচল করতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরী জরাজীর্ণ সাকো মেরামত করে
চলাচলের উপযোগী করে রাখার চেষ্টা করছে কিন্তু খরস্রোতা চিত্রা নদীর উপর নির্মিত এই ঝুকিপূর্ণ সাকো দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সামান্য অসতর্কতায় ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতোমধ্যে এই সাকো দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে এক কোমলমতী শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া অসংখ্য মানুষ নদীতে পড়ে আহত হয়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থীর বই খাতা, শিক্ষা উপকরণ, নদীতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। বাজার থেকে ক্রয়কৃত পণ্য সামগ্রী প্রায়ই নদীতে পড়ে নষ্ট হয়। সমাবেশে কৃষকদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, নদীর পূর্বপারে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ভূতিয়ার বিলে প্রতি মৌসুমে বিপুল পরিমান ধান উৎপাদন হয় কিন্তু উৎপাদিত ধান নদীর এক পার থেকে অন্য পারে পরিবহন করতে গিয়ে কৃষকদের চরম ভোগান্তী পোহাতে হয়। ব্রিজ না থাকায় কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড মারাত্বকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, প্রতিদিন ছোটো ছোটো শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সন্তানদের নিরাপদ স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয় পরিবারের অভিভাবকদের। অনেকে বলেন, নির্বাচন আসলে বিভিন্ন প্রার্থী ও জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দেন কিন্তু নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনা। বছরের পর বছর ধরে আশ্বাসের বানী শুনে আসলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি। সমাবেশে বক্তারা হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, কুমীরডাঙ্গা-গাজীপুর এলাকায় চিত্রা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণেরবিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে সমস্যার সমাধানের দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এলাকাবাসী বলেন, একটি ব্রিজ শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই করবে না বরং শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা, বানিজ্য এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। তাই জনগণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। মানববন্ধন কর্মসূচি ও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক মঞ্জুর হাসান দারু, মোঃ ফেরদৌস ফারাজি, আবু হোরায়রা বিন বিন হাসমত আলী, মোঃ জোবায়ের হোসেন রুমেল, মোঃ আরিয়ান, মাওলানা সেকেল উদ্দিন, মোঃ মুকুল মোল্যা, মোঃ ওহাব মোল্যা, মোঃ আলমগীর মাস্টার ও মোঃ সাজ্জাদ মোল্যা। বক্তাদের একটাই দাবি, কুমীরডাঙ্গা-গাজীপুরে চিত্রানদীর উপর অবিলম্বে একটি স্থায়ী ও আধুনিক ব্রিজ নির্মান করতে হবে। ব্রিজ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন এবং দৌড়ঝাপ চালিয়ে যাবেন বলে জানান। বক্তারা উক্ত ব্রিজ নির্মাণে খুলনা-০৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী হেলাল এর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
