কালিগঞ্জে ক্রয়কৃত জমি দখলের অপচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে
সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও নানান অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী রেজাউল করিম ঢালী। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করে লিখিত বক্তব্যে বলেন, কালিগঞ্জ উপজেলার চাঁচাই মৌজায় অবস্থিত ৩৩ শতক জমি তিনি প্রায় দুই দশক আগে বৈধভাবে ক্রয় করেন শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখলে আছেন। কিন্তু সম্প্রতি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলম ঢালী এ কৃষকলীগের সভাপতি শাহাজান ঢালীর ভাই আওয়ামীলীগের কর্মী শাহাজালাল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায় এবং তারেরঘেরা দেয়। ঘটনাটি আমাদের সন্মুখে হলেও শান্তিভঙ্গ হতে পারে এমনভেবে আমরা প্রতিবাদ করিনি। গত ১৬ জুন-২৬ তারিখে আমি ও আমার পাঁচ ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শাহ জালাল গংয়ের দেওয়া সেই ঘেরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তুলে দিয়ে আমার জমি আমি দখলে নেই।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন একই এলাকার ইউনিয়ন কৃষকলীগের প্রয়াত সভাপতি রাশেদ ঢালীর ছেলে শাহা জালাল, জগবন্ধু দাস ও সন্ধ্যা রানী দাসীসহ সোহেলের ইন্ধনে কয়েকজন ব্যক্তি পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে তার মালিকানাধীন জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাদের সতর্ক করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করে বরং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। রেজাউল করিমের দাবি, গত ১৬ জুন বিকেলে অভিযুক্তরা ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে তার জমির আশপাশে ঘোরাফেরা করে প্রকাশ্যে দখলের হুমকি দেয়। এমনকি জমি রক্ষায় বাধা দিলে তাকে হত্যা করে জমিতে পুঁতে রাখা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোরও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, যেকোনো সময় তার ভোগদখলীয় সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংবাদ সম্মলনের মাধ্যমে। এই সম্মেলনকালে উপস্থিত ছিলেন চাঁচাই গ্রামের নীলা রানী, তাপস দাস, জয়ন্তী মণ্ডল, পারুলগাছা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সনাতন ধর্ম প্রতিনিধি আনন্দ দাস, ইউনুস আলী ও ইদ্রিস আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ভুক্তভোগী মোঃ রেজাউল করিম প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, জমিটি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার চাঁচাই মৌজার জেএল নং-১৭৭-এর অন্তর্গত, যার সাবেক এসএ দাগ নং ৫৭৬, ৫৭৭ ও ৫৭৯ এবং মোট পরিমাণ ৩৩ শতক।
