ঢাকা শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ ১৩ ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৮ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

কলাপাড়ায় ৩০ বছর ধরে পানি টানছেন রেহানা, জোটেনি সরকারি সহায়তা

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, সময়ঃ ০৪.৫৬ পি.এম
কলাপাড়ায় ৩০ বছর ধরে পানি টানছেন রেহানা, জোটেনি সরকারি সহায়তা
www.dailyranggaprovat.com

অশোক মুখার্জী, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাসনাপাড়া কলোনির বাসিন্দা রেহেনা বেগম। নিদারুন অভাব-অনটনের মধ্যে ৩০ বছর আগে কলাপাড়া পৌর এলাকায় শুরু করেন কলসিতে পানি টানার কাজ। শুরুতে কোমরে কলসী বহন করলেও বর্তমানে একটি ভ্যান গাড়িতে অন্যের বাড়ি, খাবার হোটেল ও রেস্তোরায় সরবারহ করছেন নিরাপদ পানি। টিউবওয়েল চেপে ও গভীর পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় তাকে।

বর্তমানে বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়া এবং শরীরে বিভিন্ন রোগের কারণে আর আগের মতো পানি টানার কাজ করতে পারছে না তিনি। তার ব্যবহৃত পুরাতন ভ্যান গাড়িটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, টিন দিয়ে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঘরে থাকছেন রেহানা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে পানি টানার কাজ করায় এলাকায় তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘পানি বুয়া’ নামে। পরিশ্রমী অসহায় এ নারীকে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

রেহেনা বেগমের প্রতিবেশী মাহিনুর বলেন, “রেহেনা বুয়া পানি টানতে টানতে অনেকটা রোগাক্রান্ত হয়ে গেছেন। তার ভ্যান গাড়িটি অনেকটা অচল। ঘরের অবস্থাও খারাপ। তার সহায়তা প্রয়োজন।” 

স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ রিগার্ড বলেন, “রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে প্রতিনিয়ত কল চেপে ৫০ থেকে ১০০ কলস পানি সংগ্রহ করেন পানি বুয়া। চোখের সামনে দেখলে যে কারো অনকে কষ্ট লাগবে। আমার সম্বল থাকলে তাকে সহায়তা করতাম। সমাজের বিত্তবানদের তার পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।” 

জীবন সংগ্রাম করে এগিয়ে চলা রেহেনা বেগম বলেন, “আমার শরীরের অবস্থা ভালো না। ঘরটাও ভাঙা। যদি সমাজের বিত্তবান লোকরা আমার ঘর ও ভ্যান মেরামত করে দিতেন তাহলে কাজ করে বাঁচতে পারতাম।”

তিনি বলেন, “প্রতিদিন পানি টানার কাজ করে গড়ে ৩০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে কিছু টাকা ভ্যান মেরামতে খরচ করতে হয়। এরপর যে টাকা থাকে তা দিয়ে কোনো রকম বেঁচে থাকতে হচ্ছে।”  

কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, “রেহেনাকে বিধবা ভাতার আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারি সব সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কাউছার হামিদ বলেন, রেহানা নামের মহিলা দীর্ঘদিন ধরে পানি টানার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তিনিন ভূমিহীন এজন্য সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পাবার ব্যবস্থা করবো। এছাড়া সরকারি সুযোগ সুবিধা আওতায় আনা হবে।