ঢাকা শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ ১৩ ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৮ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

রায়পুরে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যা, অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, সময়ঃ ০৭.৪২ পি.এম
রায়পুরে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যা, অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা
www.dailyranggaprovat.com

রাঙা প্রভাত ডেস্ক :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি বাসায় ঢুকে মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় এই মামলা করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড নদীপাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের ৫ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। 

নিহতরা হলেন, শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফা (১০)।

স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বাসা থেকে চিৎকার শুনে তিনি জানালা দিয়ে ভেতরে এক যুবককে দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে বাহির থেকে বাসার প্রধান ফটক আটকে দেন। এতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদার (২৪) ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে। পরে রানীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বাসায় ঢুকে চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।

এদিকে আটকা পড়া ঘাতক অন্তর ভবনের ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী আরেকটি ভবনের ছাদে লাফিয়ে পড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছরখানেক আগে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার একই ভবনের ৫ তলায় ভাড়া থাকত। প্রায় আট মাস আগে সে বাসাটি ছেড়ে চলে যায়।

নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, আমার বোনের কাছে কিছু স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করার উদ্দেশ্যেই অন্তর এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তবে এর পেছনে অন্য কোনো মূল রহস্য বা অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।

বাদী জুনাইদ ইসলাম সিফাত জানান, বাড়িওয়ালা উপস্থিত না থাকলে ভবনের অন্য ভাড়াটেরা তার মায়ের কাছেই ভাড়ার টাকা জমা দিতেন। পরে বাড়িওয়ালা এসে তা নিয়ে যেতেন। এছাড়া পুরো বাসার দেখভালের দায়িত্বে তার মা-ই ছিলেন। অন্তর এই তথ্য জানত এবং সেই টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই হয়তো এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।

একটিমাত্র ছেলের পক্ষে একা চারজনকে এভাবে কুপিয়ে খুন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, একটি ছেলের পক্ষে একা ৪ জনকে খুন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমরা সবাই ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। এই খুনের পেছনে অন্য কোনো সহযোগী বা মাস্টারমাইন্ড আছে কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের বের করা উচিত।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত শাহীনুরের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং এর মধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সাথে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।