বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সব্যসাচী লেখক মহসনি হোসাইন: এক অসমাপ্ত কবি
মো: মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল : বাংলা সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির এক নিবেদিতপ্রাণ সাধক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ব ছিলেন কবি মহসনি হোসাইন। শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা এই সব্যসাচী লেখক তাঁর জীবন ও কর্মের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সাহিত্যাঙ্গন ও নড়াইলবাসী।
সত্তরের দশকে সাহিত্যাঙ্গনে উত্থান ঘটে কবি মহসনি হোসাইনের। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৪ সালের ৪ মে (বাংলা ১৩৬১ সালের ২১শে বৈশাখ) নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামে। পেশায় সাংবাদিক হলেও নেশায় ছিলেন লেখক—আর সেই নেশাকেই তিনি আজীবনের সাধনায় রূপ দিয়েছিলেন।
তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, ছড়াকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ফোকলোরবিদ, গবেষক, যাত্রাপালা রচয়িতা, যাত্রাভিনেতা এবং লোকসংস্কৃতি সংগ্রাহক। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা একশোরও বেশি। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ—যা তাঁর সাহিত্যিক অবদানের এক অনন্য স্বীকৃতি।
মহসনি হোসাইন তালিকাভুক্ত গীতিকার হিসেবে বাংলাদেশ বেতারে যুক্ত ছিলেন। খুলনা বেতার ও বাংলাদেশ বেতারে রেডিও ব্রডকাস্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি তিনটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে শিল্পের ভিন্ন মাধ্যমেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও ছিলেন সক্রিয়। তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমি, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং অন্তত তিনটি সম্মুখসমরে অংশ নেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ মে (বাংলা ২২শে বৈশাখ ১৪৩১) তিনি পরলোকগমন করেন। নিজ জন্মভূমি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামে নিজ ভিটায় তাঁকে দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সব্যসাচী লেখক মহসনি হোসাইনের সমাপ্ত ও অসমাপ্ত সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে চিরজাগরূক হয়ে থাকবেন।
