ঢাকা বুধবার ১৩ মে ২০২৬ ৩০ ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৩ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, বুধবার, সময়ঃ ০৮.২৮ এ.এম
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন
www.dailyranggaprovat.com

রাঙা প্রভাত ডেস্ক :

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রসাটম) পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। 
জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল এবং এটি প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ২৮ এপ্রিল শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর কোরে সর্বমোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ অ্যাটমস্ট্রয়েক্সপোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি এই সাফল্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক কোর লোডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নকালে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং কঠোর পরিচালনাগত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। 
সফলভাবে জ্বালানি স্থাপনের পর এখন পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হবে, যার মধ্যে রিঅ্যাক্টরের ওপরের অংশ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই কাজগুলো শেষ হলে প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শত শত অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিঅ্যাক্টরকে শিগগিরই ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, যা প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার পথ সুগম করবে। 
পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে পদ্মা নদী সংলগ্ন এই প্রকল্পটি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখানে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ‘ভিভিইআর-১২০০’  রিঅ্যাক্টর বসানো হয়েছে। এই উন্নত প্রজন্মের ‘জেনারেশন-থ্রি প্লাস’ রিঅ্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক সকল নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সক্ষম বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দেশের এই মেগা প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। প্রথম ইউনিটের পর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমান জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার ফলে রূপপুর এখন পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করল। সফলভাবে এই ধাপ অতিক্রম করায় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রাশিয়ান এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।