ঢাকা বুধবার ১৩ মে ২০২৬ ৩০ ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৩ ই জিলহজ, ১৪৪৮ হিজরী
Ad

ঘুম ভাঙলেই বাবাকে খোঁজেন ডরিন, দুই বছরেও মেলেনি মরদেহ- মেয়ের আর্তনাদ

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, সময়ঃ ১০.২৫ পি.এম
ঘুম ভাঙলেই বাবাকে খোঁজেন ডরিন, দুই বছরেও মেলেনি মরদেহ- মেয়ের আর্তনাদ
www.dailyranggaprovat.com

মানিক ঘোষ, ঝিনাইদহ :

দুই বছর পেরিয়ে গেছে। তবুও থামেনি অপেক্ষা। এখনো বাবার ফিরে আসার আশায় বুক বাঁধেন মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ কোথায়—তা আজও জানে না পরিবার। ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনো তার মরদেহের অবশিষ্টাংশ পর্যন্ত ফিরে পায়নি পরিবার।
২০২৪ সালের ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন আনার। তারপর হঠাৎ নিখোঁজ। কয়েকদিন পর একের পর এক ভয়ংকর তথ্য সামনে আসে। কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রকাশিত হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুমের চেষ্টা করা হয়। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো দেশ।
পরে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশি নাগরিক কসাই জেহাদসহ কয়েকজনকে আটক করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে একটি পুকুর থেকে কিছু হাড় উদ্ধার করা হয়। পরিবার শেষ আশ্রয় হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু দুই বছর পার হলেও সেই রিপোর্ট আজও হাতে পৌঁছেনি।
বুকভরা কষ্ট নিয়ে ডরিন বলেন,
“আমি কি কোনোদিন আমার বাবার কবরের পাশে দাঁড়াতে পারব না? বাবার মরদেহের অবশিষ্টাংশও কি আমরা পাবো না?”
তার কণ্ঠে তখন শুধু একজন কন্যার অসহায় কান্না।
তিনি বলেন, “মানুষ মারা গেলে অন্তত শেষ বিদায়টা দিতে পারে পরিবার। কিন্তু আমরা সেই সুযোগটুকুও পেলাম না। বাবার জানাজা হয়নি, দাফন হয়নি। মৃত্যুসনদ পর্যন্ত নেই। সবকিছু যেন এক অনন্ত অপেক্ষা।”
ডরিনের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে খুব ধীরগতিতে। “যাদের বিরুদ্ধে এত ভয়ংকর অভিযোগ, তারা কীভাবে জামিন পায়—সেটাও আমাদের কাছে বড় প্রশ্ন। আমরা শুধু বাবার হত্যার বিচার চাই।”
একসময় এলাকার মানুষের পাশে থাকা জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যু আজও রহস্য আর বেদনার অন্ধকারে ঢাকা। আর তার পরিবার দিন গুনছে—কবে তারা অন্তত প্রিয় মানুষটির শেষ স্মৃতিটুকু ফিরে পাবে।